দুধ দিয়ে গোসল করা ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:৪৭ এএম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা আরমিন আহমেদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি কমিটিতে কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। উপজেলা ছাত্রলীগের এক নম্বর সহ-সভাপতি আরমিন আহমেদকে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর বাইপাস সড়কে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।

তিনি উপজেলা সদরের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার পর তাতে কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ‘ছাত্ররাজনীতির ইতি টানার’ ঘোষণা দেন আরমিন। নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করা ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি ওই ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমার দীর্ঘ ১২ বছরের নিঃস্বার্থ ছাত্ররাজনীতির কোনো মূল্যায়ন হয়নি। যিনি নতুন সভাপতি হয়েছেন তিনি আগে ছাত্রদল করতেন, তাই তার সঙ্গে আমি রাজনীতি করতে পারি না।’ এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ নতুন কমিটির বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়ায় ঝাড়ু মিছিল বের করে। তারা পাকুন্দিয়া-মঠখলা সড়কের থানা মোড়ে অবস্থান নিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে সেøাগান দেয়।

পরে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা কর্মীদের অনুপ্রবেশসহ সংগঠনের দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া, ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যদিও নতুন কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আরমিন আহমেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে আরমিনসহ চার বন্ধু থানারঘাট এলাকার একটি হোটেলে খেতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে মির্জাপুর বাইপাস সড়কে পৌঁছালে দুটি মাইক্রোবাসে করে ১৫-২০ যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ও তার সঙ্গীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যরা পালাতে পারলেও মাটিতে পড়ে যান আরমিন। তখন হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আরমিনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন।

পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত