রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩২ এএম

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোসহ ১০ দফা দাবিতে ডাকা নৌযান শ্রমিদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হবে এমন আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন তারা। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সরকার এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে নৌযান শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শনিবার রাত ১২টা থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ এই ধর্মঘট শুরু করেছিল। ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, ‘বেতন কাঠামো গঠনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে কমিটি শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এক হাজার টনের বেশি জাহাজের শ্রমিকরা নভেম্বর থেকে ১২০০ টাকা ভাতা পাবেন এবং এর চেয়ে বেশি পণ্যবাহী জাহাজের শ্রমিকরা ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা পাবেন। এমন আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকরা তাদের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো দেখছি। একমাসের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কমিটি করেছি। আর এই একমাস শ্রমিকদের অন্তর্বতীকালীন ভাতা প্রদানের জন্য মালিকপক্ষকে বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরমধ্যে মাঝখানের একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা করেছে। কয়েক জায়গায় হামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও মামলা হয়েছে। সেটাও আমরা দেখবো। সে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। তাতে আমরা সহযোগিতা করব বলে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছি। এছাড়া নৌ-মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং মালিক-শ্রমিকরা মিলে এসব দাবি নিরসনে একটি কমিটি হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান হবে।’

নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ও কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত শনিবার রাত ১২ টা থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি পালন শুরু করে নৌযান শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে সারা দেশে নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়। বন্ধ ছিল সব ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান। ঢাকা নদীবন্দরসহ (সদরঘাট) দেশের বিভিন্ন বন্দরে লঞ্চ না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

এদিকে গতকাল ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরেও ভোগান্তির রেশ ছিল বিভিন্ন টার্মিনালে। মো. সাইদ নামে সদরঘাট টার্মিনালের এক কর্মী বলেন, ‘যাত্রীরা ভেবেছে সকালে ধর্মঘট ছেড়ে দেব। এই আশায় অনেকে রাতে টার্মিনালে রাত কাটিয়েছেন। সকালে যখন দেখলো লঞ্চ ছাড়ছে না, তখন তারা বিকল্প পথে গন্তব্যে রওনা হন।’

মো. দাউদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘পায়ের চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে চারদিন আগে ঢাকায় এসেছি মাকে নিয়ে। আজকে যাওয়ার দিন, জানতাম যে ধর্মঘট। ঘাটে এসে দেখি এমন পরিস্থিতি। মা গাড়িতে উঠলে প্রচ- অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই লঞ্চ ছাড়া যাওয়ার উপায় নাই। অপেক্ষা করতে হবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা পর্যন্ত।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে কী হবে না এই নিয়ে যাত্রীরা সংশয়ে ছিল। তাই অনেক যাত্রী ফিরে গেছে। যারা থেকে গেছেন তাদের বেশিরভাগ বরিশালগামী যাত্রী। তাই লঞ্চ ও যাত্রীর সংখ্যা দুটিই কম ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্মঘটের কারণে যাত্রীর সংখ্যা কম। শুধুমাত্র লঞ্চ রাজধানীর সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে। আশা করি কালকে (মঙ্গলবার) যাত্রী সংখ্যা বাড়বে।’

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে স্বস্তি ফিরেছে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পরে সন্ধ্যা থেকে টার্মিনালে আসতে শুরু করে বিভিন্ন রুটের লঞ্চ। এ সময় বরিশাল রুটের কীর্তনখোলা, মানামী, সুরভী ও অ্যাডভেঞ্চারসহ আরও কয়েকটি লঞ্চে যাত্রী তুলতে দেখা যায়।

 

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত