পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী মো. জুবায়ের ওরফে রাশেদুল (৩৭)। হত্যা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ২০ মামলা রয়েছে তার নামে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে কুপিয়ে জখম করেছেন ‘শতাধিক’ মানুষ। তার ধারাল অস্ত্রের নিচে পড়তে হয়েছে পুলিশকেও। ছিনতাই করতে গিয়ে ভয় দেখাতে মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা তার নেশা।
সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সোমবার রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, জুবায়ের যাত্রাবাড়ী থানার তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী। তার নেশাই মানুষকে কুপিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া। রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ে রয়েছে তার বিশাল গ্রুপ। বিশেষ করে ধোলাইপাড় এলাকায় এই জুবায়ের আতঙ্কের নাম। এর আগে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালালে পুলিশকে কুপিয়ে পালিয়েছিল।
ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসাইন বলেন, ঘটনার রাতেও জুবায়ের দলবল নিয়ে ধোলাইপাড়ের কবরাস্থান রোডে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করছিল। খবর পেয়ে স্পেশাল ডিউটির পুলিশ ফোর্স নিয়ে ওই এলাকা ঘিরে কুখ্যাত এ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময়ে অন্য আসামিরা পালিয়ে গেলেও তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও পটুয়াখালী জেলাসহ বিভিন্ন থানায় তিনটি হত্যা মামলাসহ এ পর্যন্ত ২১টি মামলার তথ্য মিলেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এসব মামলার তথ্য মিললেও রিমান্ডে সে জানিয়েছে, সে ও তার দলের লোকজন শতাধিক লোককে কুপিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনতাই করেছে। এরমধ্যে অনেকে মারাও গেছে। তার দলে অন্তত ১২ জন রয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।
তবে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি এই কর্মকর্তা।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, জুবায়ের অতি ভয়ঙ্কর। গত রোজার সময়ে তার অবস্থান শনাক্তের পর ধোলাইপাড় এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। তখন সে পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসাইনসহ কয়েক পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর ঢাকা ছাড়লেও ফের এসে ছিনতাই কার্যক্রম শুরু করে।
জুবায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জুবায়েরকে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কেও তার কাছে তথ্য মিলেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামির স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছিল খুনের নির্দেশদাতা ছিল জুবায়ের। শেষ পর্যন্ত ছিনতাই মামলায় জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে, এই জুবায়েরই অন্য আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসা খুনের নির্দেশদাতা। তাকে ওই খুনের মামলায়ও নতুন করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
