৯০০ হেক্টর জমির চাষাবাদ হুমকিতে

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৩ এএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে পিরতলা খাল ও জানের খালের অব্যাহত দখল ও ভরাট এবং সুইসগেট অকেজো থাকায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে দুই ইউনিয়নে অন্তত ৯০০ হেক্টর জমির ইরি-বোরো ও রবি ফসলের চাষাবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জানের খাল। গাবতলী সুইসগেট থেকে পিরতলা বাজার হয়ে পাতাবুনিয়া নদী এবং খুরমাতলা থেকে আংগারিয়া সুইসগেট হয়ে পায়রা নদীর সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ আটকে থাকায় শ্রীরামপুর ও আংগারিয়া ইউনিয়নে ৯০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষক। ওই দুই ইউনিয়নের তিন সহস্রাধিক কৃষিজীবী পরিবার প্রতি বছর আউশ, আমন, ইরি-বোরো ও রবি ফসলে মার খাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, খালের উভয় প্রান্তে পাউবোর সুইসগেট দুটি অকেজো। এতে পানিপ্রবাহ হচ্ছে না, তাই জমিতে পানিও দেওয়া যাচ্ছে না।

অপরদিকে, বছরের পর বছর ধরে পানির প্রবাহ না থাকায় বিভিন্ন স্থান ভরাট হতে হতে অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে খাল দুটির। এ সুযোগে পিরতলা বাজার এলাকায় খালের বেশির ভাগ প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় এটিকে আর খাল বলার উপায় নেই। এমন অবৈধ দখল-দুষণে মৃতপ্রায় খালের দুই পাড়ের শত শত হেক্টর ফসলি জমিতে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট আর বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় কৃষকরা তাদের ফসলে মার খেতে খেতে চাষাবাদের আগ্রহ হারাতে বসেছেন।

শ্রীরামপুর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিদা আমির হোসেন গাজী (৬০) বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে আমনের ফলন নষ্ট হয়েছে। একই অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মোসলেম খান (৫৫), রাজাখালী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক নুরু হাওলাদার (৫৮), জলিশা গ্রামের কৃষক আবদুল হাইসহ (৪৫) অনেক কৃষকের। তাদের দাবি, আবদ্ধ খাল দুটি খুলে দেওয়া এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার।

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সালাম বলেন, অকেজো সুইসগেট দুটি দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকায় খাল ভরাটের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বেদখল হয় মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খালে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকার কৃষকরা আউশ-আমন, ইরি-বোরো ও রবিশস্যের চাষাবাদ করতে পারছেন না। ক্ষেতের পানি ওঠা-নামা করতে না পারায় এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ফসলহানি ঘটছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটে ইরি-বোরো ও রবি ফসলের আবাদ করা যায় না। কৃষক বাঁচাতে সুইসগেট দুটি সংস্কার ও খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন-নিবেদন করলেও বরাদ্দ সংকটসহ নানা অজুহাতে তারা সময়ক্ষেপণ করছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উনয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অকেজো সুইসগেট দুটির সংস্কার প্রকল্প প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত