সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার ভেতরে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার 'ডাইনেস্টি সোয়েটার বিডি লিমিটেড' কারখানার মূল গেট বন্ধ করে দিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
এর আগে, বুধবার দুপুর থেকে কারখানার কর্মকর্তাসহ প্রায় ১২৫৬ জন শ্রমিক তাদের বকেয়া পাওনা আদায়ে ভেতরে অবস্থান করছেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, গেল তিন মাস আগে কারখানা মালিক কারখানাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু বার বার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার জন্য বলা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাত করেনি। এরপরেও শ্রমিকরা কাজ স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার দুপুরে কারখানার ভেতরে গিয়ে তাদের এক শ্রমিককে মারধর করে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন।
এরই প্রতিবাদে এবং শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকরা সকল পাওনাধি পরিশোধের দাবি জানিয়ে বুধবার থেকেই কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে। তারা রাতভর কারখানার ভেতরেই অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে এবং তাদের সকল পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে।
অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে টাঙানো একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, ডাইনেস্টি সোয়েটার বিডি লিমিটেড ও মিলেনিয়াম সোয়েটারে কর্মরত সকল শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ প্রতিনিধি এবং গভর্নমেন্ট অথরিটিসহ সম্মিলিতভাবে ফ্যাক্টরি কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বসে বিদ্যমান অসন্তোষ ও দেনা-পাওনা বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রমআইন ২০০৬ ও সংশোধনী ২০২২ অনুযায়ী সকল ধরনের দেনা পাওনা ২৬ ধারা অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।
কারখানাটিতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, কারখানার মালিক ছাড়া সকল কর্মকর্তারাও কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
তবে তারা অবরুদ্ধ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমিকরা জানায়, তারা অবরুদ্ধ নয়, সকল শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেই তারা কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন।
জানতে চাইলে ডাইনেস্টি সোয়েটার বিডি লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার শফিউজ্জামান বলেন, বুধবার থেকেই তারা কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। কিন্তু মালিকপক্ষের কেউ দুপুর পর্যন্ত কারখানায় এসে পৌঁছায়নি।
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক কাসেম বলেন, কারখানার ভেতরে শ্রমিকরা অবস্থান করছে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
