সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের চার হাজার কম্বল ফেরত দিয়েছেন ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। শীতার্তদের বিতরণের জন্য বরাদ্দ এসব কম্বল বৃহস্পতিবার সকালে ফেরত দেন তারা। এরপর থেকে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহজাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে বরাদ্দ কম্বল ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরত দেন চেয়ারম্যানরা। পরে ফেরত দেওয়া কম্বলগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সূত্রে জানা যায়, শীতে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য শাহজাদপুরের ১৩ ইউনিয়নে ৩৫০ পিস করে কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দ দেওয়ার পর স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা কম্বল বিতরণের তালিকা করছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন চেয়ারম্যানদের জানান যে,
বরাদ্দকৃত কম্বল এমপি প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ থেকে ২০০ পিস করে কম্বল নিজে বিতরণের জন্য চেয়েছেন।
চেয়ারম্যানরা আরো জানান, প্রতি ইউনিয়নে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ রয়েছে। সেই মানুষগুলোর জন্য মাত্র ৩৫০ করে পিস কম্বল আমরা বরাদ্দ পেয়েছি যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার যদি এমপিকে ২০০ পিস দেওয়া হয় তাহলে আমরা কীভাবে মানুষের মাঝে এ অল্পসংখ্যক কম্বল বিতরণ করব। তাই ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কম্বল ফেরতের বিষয়ে গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, তীব্র শীতের কারণে দরিদ্র ও অসহায় শীতার্তদের জন্য উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাঝে সরকারি বরাদ্দ ৩৫০ পিচ করে মোট ৪ হাজার ৪৫০ পিস কম্বল দেওয়া হয়। পরে এমপি সাহেব ২০০ পিস কম্বল চেয়েছেন। সেই কম্বলগুলো এমপি মহোদয় বিতরণ করবেন ২০০ এবং আমরা বিতরণ করব ১৫০ পিস। আমরা বললাম, ‘আলহামদুল্লিাহ আমরা কম্বল বিতরণ করব না’। আমাদের ইউনিয়নে কোনো দরিদ্র, অসহায় ও বৃদ্ধ শীতার্ত মানুষ নাই। তাই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো আমরা ফেরত দিয়েছি।
হাবিবুল্লাল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্ছু বলেন, ‘আমাদের মাঝে যে কম্বলগুলো বরাদ্দ দেওয়া
হয়েছে, সেগুলো থেকে ২০০ পিস এমপি মহোদয় বিতরণ করবেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান। এ কারণে আমরা বিতরণ না করে বরাদ্দ পাওয়া কম্বল ফেরত দিয়েছি’।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়েছে কি না এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
আদৌ স্থানীয় সংসদ সদস্য কম্বল নিজ হাতে বিতরণ করতে চেয়েছে কি না তার সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিনের ফোনে
বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বল এমপি মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতরণ করবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, কম্বল ফেরত দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমি বলেছি প্রতি ইউনিয়নে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
