৪ মাসে চতুর্থবারের মতো শনিবার (৩ ডিসম্বর) কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে অসংখ্য জেলিফিশ। সৈকতের শৈবাল পয়েন্টের বালুচর ছেয়ে গেছে মৃত জেলিফিশে। এর আগে গেল ৩ ও ৪ আগস্ট ও ১১ নভেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট অসংখ্য মৃত জেলিফিশের দেখা মেলে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিবছর সৈকতে জেলিফিশ ভেসে আসলেও এ বছর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জেলিফিশ ভেসে এসেছে। বছরের শেষের দিকে সৈকতে দফায় দফায় জেলিফিশের দেখা মেলে। শনিবার সকালে জোয়ারের পানিতে জেলিফিশগুলো ভেসে এসেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, টানা জালে আটকে পড়ে মারা যায় জেলিফিশগুলো। টানা জাল থেকে জেলেদের ফেলে দেওয়া মৃত জেলিফিশ ভাসতে ভাসতে সৈকতে চলে আসে।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার জানান, কক্সবাজার সমুদ্রে জেলিফিশ জন্মে বেশি। কিন্তু জেলেদের কাছে এ মাছের কোনো গুরুত্ব না থাকায় মেরে ফেলেন। মরে যাওয়া মাছগুলো কূলে ভেসে আসে। ভেসে আসা জেলিফিশে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তিনি আরও জানান, লোবোনিমুইডিস রোবোস্টাস বা স্থানীয় ভাষায় সাদা নুইন্না প্রজাতির এই জেলিফিশের সংস্পর্শে গেলে কোনো ক্ষতি হয় না। বরং প্রক্রিয়া করা গেলে খাদ্য হিসেবে বেশ উপযোগী জেলিফিশ। এটি নিয়ে গবেষণা চলছে।
স্থানীয় ভাষায় জেলিফিশকে 'নুইন্না' বলে সম্বোধন করা হয়। হাবিবুর রহমান নামের এক জেলে জানান, কক্সবাজারের মানুষ জেলিফিশ খায় না। এগুলো বেচাকেনাও হয় না। ফলে এসব আমাদের কোনো কাজে আসে না। বরং কিছু প্রজাতির জেলিফিশ গায়ে লাগলে মারাত্মকভাবে চুলকায়। তাই এসব জালে আটকা পড়লে আমরা ফেলে দিই।
