চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সেই যুদ্ধ গড়িয়েছে ৯ মাসে। তবে যুদ্ধ বন্ধের এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ পাওয়া দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে রাশিয়ার প্রতিবেশী ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে এই সংকটের শুরু। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের হুমকির শঙ্কায় শুরুতে ইউক্রেন সীমান্তে ব্যাপক সেনা সমাবেশ করে রাশিয়া। যুদ্ধ বাধতে যাচ্ছে এই আশঙ্কায় রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেন ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে তা থামাতে পশ্চিমা দেশের অনেক নেতার দৌড়ঝাঁপ উল্লেখ করার মতো ছিল। বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বেশ কয়েকবার ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। তবে পশ্চিমাদের অনড় অবস্থান এবং রাশিয়ার পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে যুদ্ধটা বেধেই যায়। তবু হাল ছাড়েননি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো নেতারা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে আবারও এই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
এ সফরে ফরাসি টেলিভিশন টিএফ-ওয়ানে একটি সাক্ষাৎকার দেন ম্যাক্রোঁ। গত শনিবার এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করতে পশ্চিমাদের দায়িত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের উদ্বেগটিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
টিএফ-ওয়ানকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যেকোনো আলোচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় থাকতে হবে যেটি প্রেসিডেন্ট পুতিন সবসময় বলে থাকেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট রাশিয়ার দোরগোড়ায় চলে আসছে এবং তারা অস্ত্র মোতায়েন করছে যা রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য নিজেদেরই কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার নিরাপত্তার বিষয়টি শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবেই আসতে হবে। এজন্য আমাদের প্রস্তুত করতে হবে আমরা কী করব, কীভাবে আমাদের মিত্র ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করব। সেইসঙ্গে রাশিয়া যেদিন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই বা কীভাবে দেব।’ এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন যুদ্ধ বন্ধে তিনি আবারও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন।
বাস্তবতা হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দেশ ফ্রান্স, জার্মানি জ্বালানিসহ সার্বিক দিক দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি দুর্দশা ভোগ করছে। এরই মধ্যে চলে এসেছে শীত, রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভর ইউরোপে জ্বালানি সংকট এখন চরমে। ইউক্রেন পর্যন্ত ন্যাটোর সম্প্রসারণে জার্মানি-ফ্রান্স অতি আগ্রহী না হলেও ইউরোপের অভিভাবক হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ছিল। অথচ ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার উদ্বেগ থেকে যে যুদ্ধটা শুরু হয় তাতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েছে ইউরোপ। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ফর্মুলা এবং ভূ-রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের নেতাসুলভ মনোভাব কেবল ইউরোপীয় মহাদেশের সমৃদ্ধিকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে না, একই সঙ্গে আন্তঃআটলান্টিক মৈত্রীকেও নাজুক করে ফেলছে।’
