সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩৪ পিএম

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যা মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

তিন দশক আগের ঘটনায় করা এই মামলায় চার্জ শুনানির জন্য সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষ এ মামলার সাক্ষী সাদিয়া চৌধুরীর দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। এজন্য আসামি পক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য আবেদন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রফিকুল ইসলাম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

আসামিরা হলেন- সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজা (৫৯)। এদিন আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্বামী সালাম চৌধুরী।

প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দু’জনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামের একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন।

পরের বছরের ২৭ আগস্ট অন্য এক আদেশে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এরপর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ জুন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ মামলার অধিকতর তদন্ত আদেশে এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

২০১৯ সালের ১৭ আগস্ট এ মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সগিরা মোর্শেদের স্বামীর নাম আবদুস সালাম চৌধুরী। তার (সালাম চৌধুরী) বড় ভাইয়ের নাম সামছুল আলম চৌধুরী। মেজ ভাই চিকিৎসক হাসান আলী চৌধুরী। তিনজনই তাদের পরিবার নিয়ে আউটার সার্কুলার রোডে তখন বসবাস করতেন। সগিরা মোর্শেদেরা থাকতেন দ্বিতীয় তলায়। চিকিৎসক হাসান তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদাকে নিয়ে থাকতেন ওই বাসার তৃতীয় তলায়। সায়েদাতুল মাহমুদা তিন তলা থেকে প্রায় সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলতেন, যা সগিরা মোর্শেদের পেছনের রান্নাঘর ও সামনের বারান্দায় পড়ত। এ নিয়ে সগিরার সঙ্গে মাহমুদার প্রায় ঝগড়াঝাঁটি হতো। আর শাশুড়ি থাকতেন সগিরার সঙ্গে। তার শাশুড়ি তাকে ভালোবাসতেন। এ নিয়ে সায়েদাতুল মাহমুদা খুব হিংসা করতেন। ঝগড়ার সময় সগিরাকে মাহমুদা বলতেন, দাঁড়া, আমার ভাই রেজওয়ান (আনাস মাহমুদ) আসুক। আমার ভাইকে দিয়ে তোকে মজা দেখাব। তোকে ঘর থেকে বের করব।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারিবারিক তুচ্ছ কারণে হাসান আলী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদার মনে ইগোর জন্ম হয়। একসময় সায়েদাতুল মাহমুদা সগিরাকে শায়েস্তা করার জন্য তার স্বামী হাসানকে বলেন। হাসান তাতে রাজি হন। চিকিৎসক হাসানের রোগী ছিলেন মারুফ রেজা। যিনি তৎকালীন সিদ্ধেশ্বরী এলাকার সন্ত্রাসী ছিলেন। এই মারুফ ছিলেন সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের আত্মীয়। সগিরাকে শায়েস্তা করার জন্য মারুফের সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসক হাসান। ওই কাজের জন্য মারুফকে তখন ২৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হন হাসান। আর হাসান তখন মারুফ রেজার সহযোগী হিসেবে নিয়োগ করেন তার শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ানকে, যাতে সগিরাকে সহজে দেখিয়ে দিতে পারেন। আনাস তার দুলাভাই হাসানের বাসায় যাতায়াত করতেন। এ কারণে তিনি সগিরাকে চিনতেন।

২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি চারজনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। গত ৯ মার্চ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত