বিশ্বে প্লাস্টিক বর্জ্য বেড়েই চলেছে। মানুষ যত্রতত্র ফেলছে প্লাস্টিক। ফলে এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর। প্লাস্টিক ব্যাগে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাদ্যের লোভে অনেক প্রাণী পলিথিন-প্লাস্টিক খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। এবার ভারতের একটি গরু প্লাস্টিক খেয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে। অস্ত্রোপচার করে গরুটির পেট থেকে ৬৫ কেজি প্লাস্টিক এবং ধাতব বর্জ্য বের করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়–র মাদুরাইতে। কয়েক দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করছিল না গরুটি। এমনকি পানিও পান করতে পারছিল না। ফলে মালিক গরুটি নিয়ে পশু হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে পেটের ভেতর বিপুল পরিমাণ ফরেন অবজেক্ট বা অপরিচিত বস্তুর উপস্থিতি পেয়ে অবাক হন। পরে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয় প্লাস্টিক। যার ফলে প্রাণে বেঁচে যায় গরুটি।
এ বিষয়ে গরুর মালিক পরমেশ্বরন জানান, গত কয়েক দিন ধরেই গবাদিপশুটি কোনো রকম খাবার বা পানি খাচ্ছে না। পরে গরুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে জমে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক এবং ধাতব বর্জ্য পদার্থ, যার কারণে কোনো খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করতে পারত না প্রাণীটি। প্রাণ যেতে বসেছিল তার। এরপরেই অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। পরে অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে বের করা হয় মোট ৬৫ কেজি প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধাতব বর্জ্য। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরো অস্ত্রোপচারটি করতে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। এরপর আরও ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয় গরুটিকে। তারপর থেকে প্রাণীটি আবার ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় পশুগুলো নিশ্চিন্তে রাস্তায় ছেড়ে না দিয়ে তাদের ওপর নজর রাখতে অনুরোধ করেছেন চিকিৎসকরা। নয়ত এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এর আগে স্কটল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে একটি মরা তিমির পেটে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পাওয়া যায়। প্লাস্টিকের দড়ি, কাপ, গ্লাভস ও জালসহ সব মিলিয়ে পেট থেকে ১০০ কেজি প্লাস্টিক বের করা হয়। এছাড়া প্লাটিক খেয়ে কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি অ্যালবাট্রসের মৃত্যুর খবর প্রায়ই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
