চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন দীর্ঘ ২৬ বছর পর আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে সরকারি একটি বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে। ইতিমধ্যে সম্মেলনের সব ধরনের আয়োজন শেষ হয়েছে। এর আগে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে।
এদিকে, নানা কারণে সম্মেলনকে ঘিরে বিরাজ করছে কিছুটা উদ্বেগ। কারণ, স্থানীয় সাংসদ ও বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে উপজেলার অধিকাংশ দলীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে এলেও সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুরের নেতৃত্বে একটি অংশ সব সময় কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। আবার ২৬ বছর আগে গঠিত কমিটির কয়েক নেতার মৃত্যু, বহিষ্কার এবং নতুন করে পদায়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ ছিল কিছুটা হ-য-ব-র-ল।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা, কর্মিসভা করা হয়। তবে সেসব সভায় সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ সম্মেলনে সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর উপস্থিত ছিলেন না।
অপরদিকে, সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মনছুর, দৈনিক পূর্বদেশ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান সিআইপি, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলমের নাম শোনা যাচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণের সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও কালীপুরের চেয়ারম্যান আ ন ম শাহাদাত আলম, চাম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও শীলকুপের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সিকদারসহ বেশ কয়জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন বাঁশখালীতে এবং দ্বিতীয় অধিবেশন হবে চট্টগ্রামে। দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হবে।
স্কুল মাঠে সম্মেলনের ব্যাপারে বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইন বলেন, দলীয় অফিসে সভা-সমাবেশ করলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় বলে প্রধান শিক্ষককে আহ্বান করেছি একদিন শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত করার জন্য। তাছাড়া দলীয় লোকসংখ্যা বেশি হবে তাই বাধ্য হয়ে স্কুল মাঠে করছি। স্কুল মাঠকে বালু দিয়ে সমতল করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
