বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৪ জন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টায় তাদের যাত্রা করার কথা।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৬২ রোহিঙ্গাকে তৃতীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে ঢাকা ও ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৩০০-৮০০ রোহিঙ্গা নেবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সে দিন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়েটা নয়েস বলেন, দীর্ঘায়িত হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরানো এবং তা হতে হবে টেকসই। যখন সেই সমাধান হচ্ছে না, তখন অন্য সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বাড়তি সমাধান দরকার।
নয়েসের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আগামী এক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৩০০-৮০০ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র। পরীক্ষামূলক ও পাইলট প্রকল্প হিসেবে তাদের দেশটিতে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ চায় ২০১৭ সালের আগে আসা রোহিঙ্গাদের থেকে এ তালিকা করা হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ২০১৭ সালের আগস্টে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে অধিক ঝুঁকিতে থাকাদের তালিকা করার।
এদিকে গতকাল কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে বলেছিলাম আপনারা এক লাখ রোহিঙ্গা নেন। ব্লিনকেনের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে আসেন।
তিনি আরও বলেন, ‘১২ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উচিত। বাংলাদেশের এতটা ভার বহন সম্ভব নয়। বন্ধু দেশগুলোকেও আমরা একই অনুরোধ করি। মিয়ানমার বলেছে, ২০১৬ সালের পরে যারা এসেছে যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের তারা নেবে। তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, আগে থেকে যে রোহিঙ্গারা এখানে আছে তাদের আগে নিতে হবে।’
ড. মোমেন বলেন, ‘৬২ জনের একটি লিস্ট হয়েছিল। প্রথম ধাপে ২৪ জনকে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গাকে সারা বিশ্ব থেকে নেবে তারা।’
তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়াই আসল সমাধান বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে বলে কথা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।’
