ফল ওজন কমানোর জন্য দুর্দান্ত, কিন্তু আপনি কি জানেন যে এটি সঠিকভাবে খাওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের ডায়েটিশিয়ান ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. অর্চনা বাত্রার মতে, ‘অনেক মানুষ ভুলভাবে ফল খায়, যা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হতে পারে বেশি।’
ফল খাওয়ার সময় আমরা যে ৪টি সাধারণ ভুল করি তার একটি তালিকা এখানে দেওয়া হল-
অন্য খাবারের সঙ্গে খাওয়া: অন্য যেকোনো খাবারের চেয়ে ফল দ্রুত ভেঙে যায়। অন্য খাবারের সঙ্গে মিলিত হলে এটি শরীরে আমা নামের এক ধরনের টক্সিন গঠন করতে পারে।
এছাড়া খাবার হজমকে ধীর করে দিতে পারে। ভারী খাবার হজম হতে যতক্ষণ বেশি লাগে ততক্ষণ ফল পেটে থাকতে হয়। এতে পুষ্টি শোষণকে কঠিন করে তোলে। এটি পাচন রসে গাঁজন শুরু করে, যা সাধারণত বিষাক্ত এবং অসুস্থতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ফল আলাদা করে খাওয়াই ভালো।
রাতে খাওয়া: ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে যে কোনও কিছু খাবার এড়িয়ে চলা ভালো কারণ এটি হজম প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। বিষয়টি ফলের জন্যও সত্য।
ঘুমানোর ঠিক আগে ফল খেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে কারণ এটি প্রচুর পরিমাণে চিনি নিঃসরণ করে, যা শরীরের বিশ্রামের সময় শক্তির মাত্রা বাড়ায়।
রাতে আমাদের শরীর পুষ্টি শোষণ করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এ ছাড়া গভীর রাতে ফল খেলে অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ফল সাধারণত সন্ধ্যার জলখাবার হিসেবে খাওয়া উচিত এবং এর পরে নয়।
সঙ্গে পানি পান: কেবল শিশুরা নয় বয়স্করাও অনেক সময় ফল খাওয়ার তাৎক্ষণিক পরেই পানি পান করে থাকেন।
ফল খাওয়ার পর পানি পান করলে পাচনতন্ত্রের পিএইচ মাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে তরমুজ, কস্তুরুজ, শসা, কমলা এবং স্ট্রবেরির মতো উচ্চমাত্রায় পানি উপাদানযুক্ত ফলের ক্ষেত্রে। কারণ প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে এমন ফল পেটের অম্লতা কমিয়ে পিএইচ ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এসব ফল খাওয়ার পরপরই পানি খেলে ডায়রিয়া বা কলেরার মতো গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে।
ফলের খোসা না খাওয়া: যখন ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কথা আসে, সেক্ষেত্রে ফলের খোসাই সেরা। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। গবেষণা অনুসারে ফলের খোসা খেলে আপনার স্থূলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।
