বগুড়ায় হিমালীয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৭ পিএম

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার মুরাদপুর গ্রাম থেকে হিমালীয়ান শকুন উদ্ধার করেছে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’।

রবিবার দুপুরে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন তীর জানায়, শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যারাতে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামের অদূরে বড়ইহাট ইউনিয়নে মুরাদপুর গ্রামে ফসলের জমিতে হঠাৎ একটি বড় আকৃতির পাখি নামতে দেখে গ্রামবাসী। কৌতুহলবশত গ্রামের তরুণেরা এটিকে আটক করেন। গ্রামের প্রবীণরা এটিকে শকুন হিসেবে চিহ্নিত করলে অনেকেই কুসংস্কারের কবলে মেরেও ফেলতে চায়। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন সচেতন যুবক বিষয়টি সরকারি হেল্পলাইনে অবগত করেন।

এরপর ‘আইইউসিএন’ ও ‘বন বিভাগ’ এর পরামর্শে এর শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ- তীর’ সরকারি আজিজুল হক কলেজের একটি উদ্ধারকারী দল রাতেই খবর পান। পরে তীর’র সভাপতি মো. রিফাত হাসান, সাবেক সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান, সহসভাপতি মো. মুকিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন রহমানসহ চার সদস্যের উদ্ধারকারী দল স্থানীয় যুবকদের সাথে নিয়ে গ্রামবাসীদের শকুনের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হন। গ্রামবাসী শকুনটিকে ‘তীর’ সদস্যদের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়।

এ বিষয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম. ইকবাল জানান, এটি  “Himalayan griffon vulture”  বা ‘হিমালীয়ান গৃধিনী’  শকুন জাতের পাখি। শকুন হচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়ুদার। শকুন বড় ডানার বৃহদাকার পাখি, এটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী মৃত ভক্ষণকারী পাখি। শকুনই একমাত্র প্রাণী যারা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে জীবকূলকে রক্ষা করে।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ সরকারি আজিজুল হক কলেজের সভাপতি জানান, দীর্ঘ হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বছরের এই সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে এ দেশে আসে এই শকুন। পথেই ক্লান্ত ও খাদ্যাভাবে দুর্বল হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পড়ে। এ সময় এদের উদ্ধার ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। প্রতি বছরেই ‘তীর’ সদস্যরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে শকুন উদ্ধারের কাজে বন বিভাগকে সহায়তা করে। এ বছর ইতিমধ্যে তিনটি শকুন উদ্ধার করেছেন ‘তীর’ সদস্যরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত