সাভারে পৃথক দুটি বেসরকারি ক্লিনিকে আয়া ও নার্স অপারেশন করার সময় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনেরা সড়ক অবরোধ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাইপাইল বগাবাড়ি এলাকার হ্যাপি জেনারেল হাসপাতাল ও রাতে তেঁতুলঝোড়া এলাকার স্ট্যান্ডার্ড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম মাহমুদা বেগম (৩১)। তিনি সাভারের ইয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্য ঘোষবাগ এলাকার আব্দুল বাছেদের স্ত্রী।
তার স্বামী আব্দুল বাছেদ জানান, তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠলে বাসা থেকে অটোরিকশায় করে বগাবাড়ি এলাকার হ্যাপি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে ভর্তি করে সিজারিয়ান অপারেশন করা হলে মাহমুদা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু ঘটনার পর হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে স্ত্রী মারা যায়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবিতে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজনেরা। এ সময় হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে নিহতের লাশ রেখে রেখে মালিকের বিচার দাবি করেন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, বাইপাইল এলাকার ওই হাসপাতালটিতে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এলাকাবাসী একে মানুষ মারার হাসপাতাল বলেই জানে। তারপরও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় অনেক শ্রমিক, নিম্নআয়ের মানুষ টাকার অভাবে এ হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা নিতে আসেন।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক না থাকায় ওটি বয় এবং আয়ারা অপারেশন করেন।
জানতে চাইলে হ্যাপী হাসপাতালের ম্যানেজার লেবু ফোনে জানান, ভুল চিকিৎসা কিংবা অবহেলার কারণে নয়, অপারেশনের সময় তার স্ট্রোক হওয়ায় আমরা ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করি। কিন্তু তার স্বামী সিনক্রিয়েট করার কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সে মারা যায়।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা জানান, ভুল চিকিৎসায় কিংবা চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে শনিবার রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া মোড়ে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হাসপাতালটি বন্ধসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত নবজাতকের মা গার্মেন্টস কর্মী সানজিদা আক্তার বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর প্রসব বেদনা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু সেখানে ডাক্তার না থাকায় ওটির নার্স সুমাইয়া আক্তার নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালালে পেটের ভেতরই নবজাতকের মৃত্যু হয়।
সানজিদার স্বামী আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, আমার স্ত্রীকে সিজার করার জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে সিজারের কথা বললে নার্স সুমাইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রীর পেটে চাপাচাপি করলে পেটের ভেতরে সন্তানটি মারা যায়।
স্ত্রীর সব রিপোর্ট ভালো ছিল দাবি করে এ ঘটনায় বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে স্ট্যান্ডার্ড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার ইত্তেহাদুল ইসলাম ইমরান চিকিৎসা অবহেলার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই সময়ে আমি ছিলাম না। পরে শুনেছি এবং বিষয়টি মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গত ২৬ নভেম্বর রাতেও একই হাসপাতালে হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
