বিশ্বের সবচেয়ে খাটো পুরুষ হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠলো ইরানের নাগরিক আফশিন ইসমায়েল গাদেরজাদেহের। আফশিনের উচ্চতা মাত্র ৬৫.২৪ সেমি বা ২ ফুট ১.৬ ইঞ্চি যা পূর্বতন রেকর্ডধারীর চেয়ে ৭ সেন্টিমিটার কম। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কলাম্বিয়ার ৩৬ বছর বয়সী এডওয়ার্ড নিনো হার্নান্দেজের।
জন্মের আগেই ইসমাইলের বাবা-মা তাদের দুই সন্তানকে হারান। শেষে ইসমাইলের জন্মে পরিবারে খুশির হাওয়া। কিছুদিন পর জানা যায় জেনেটিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত তিনি। তিনি এতটাই খাটো যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেও হিমশিম খেতে হয়।
গত মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ২০ বছর বয়সী আফশিনের এই উচ্চতা রেকর্ড করে গিনেস কর্তৃপক্ষ।
এই উচ্চতা পরিমাপ দেয়ার জন্য আফশিন গিনেসের দুবাই অফিসে আসেন। সেখানে হেয়ার স্টাইলিস্ট ও টেইলারদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি তার বাকেট লিস্টে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে সুউচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা পরিদর্শন করেন।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের বুকান কাউন্টিতে অবস্থিত একটি প্রত্যন্ত গ্রামে আফশিন বাবা-মার সঙ্গে বাস করেন। কথা বলেন ফার্সি উপভাষা কুর্দি এবং ফার্সি উভয় ভাষায়। মাত্র ৭০০ গ্রাম বা ১.৫ পাউন্ড ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন আফশিন। এখন তার ওজন মাত্র সাড়ে ছয় কেজি বা ১৪.৩ পাউন্ড। মানানসই পোশাক জোগাড় করাটা তার কাছে চ্যালেঞ্জের। তিনি কেবল সেই পোশাকই পরতে পারেন যেটা তিন বছরের শিশুর হয়। কিন্তু সেসব পোশাকের নকশা বয়সের সঙ্গে মানানসই হয় না।
উত্তর ইরানে আফশিনের জীবন সহজ ছিল না। তার আকারের কারণে স্কুলে যেতে পারেননি কখনো। এছাড়াও শারীরিক অক্ষমতা তো ছিলই। সব সময় দুর্বল থাকতেন আফশিন। ছোটবেলায় সেখানে চিকিৎসাও করাতে পারেননি আফশিনের বাবা-মা। তবে আফশিনের শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও তার কোনো মানসিক সমস্যা নেই। বর্তমানে তার বয়স ২০ বছর।
কম উচ্চতার জন্য তার বাবার মতো নির্মাণ শ্রমিকের পেশায় যেতে পারেননি আফশিন। সত্যিকারে বুকান কাউন্টির ওই প্রত্যন্ত গ্রামে আফশিনের করার মতো কোনো কাজই নেই। সম্প্রতি নিজের নাম লিখতে শিখেছেন তিনি।
আফশিনের সময় কাটে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করে এবং কার্টুন দেখে। আফশিন ফুটবল খেলা দেখতেও ভালোবাসেন। তার প্রিয় ফুটবল খেলোয়াড়রা হলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী আলি দাই (ইরান) এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)।
নিজের এলাকায় আফশিন খুবই জনপ্রিয় তার আচার-ব্যবহারের জন্য। মানুষকে যতটা পারেন সবসময় সাহায্য করেন এবং হাসিখুশি থাকেন। এজন্য এলাকার মানুষও খুব ভালোবাসেন তাকে। তার এই রেকর্ডের জন্য বাবা-মা সহ প্রতিবেশীরাও খুশি।
