পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত বিনিয়োগ নির্দিষ্ট সীমার অনেক নিচে থাকলেও কিছু বেসরকারি ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে মন্দা থাকায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করতে পারছিল না ব্যাংকগুলো। এমন পরিস্থিতিতে যেসব ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে, তা সমন্বয়ে এক বছর সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সোমবার এক সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে।
মূলত ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনায় কিছু ব্যাংকের বিনিয়োগ অতিরিক্ত হয়ে পড়ে। আগে ব্যাংকগুলো তার দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। কিন্তু বিনিয়োগের সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে দায়ের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রকমূলক মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে ব্যাংকগুলো। আর সাবসিডিয়ারিসহ একটি ব্যাংক তার রেগুলেটরি মূলধনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পুঁজিবাজরে বিনিয়োগ করতে পারে। সে সময় অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু বাজার পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি ব্যাংক তা সমন্বয় করতে পারেনি। এরপর বছর বছর সমন্বয়ের সময় বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও নতুন করে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত যেসব ব্যাংকের সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ (ব্যাংক কর্তৃক অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সামষ্টিক বা এককভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে) আছে, সেগুলো ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাটি সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
