বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ আমলে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে দেশের ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল। গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দাবিতে আয়োজিত মহিলা দলের মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কারাবন্দি সকল নেতার মুক্তি দাবি করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ক্ষমতায় থাকার জন্য বর্তমান সরকার ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে বিকৃত করেছে। তাদের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’ ‘রাষ্ট্রকে যারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, তারা আবার এ রাষ্ট্র মেরামত করবে!’ বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের দুর্নাম বয়ে এনেছে। দেশের বিচারব্যবস্থা, গণতন্ত্র সামাজিক অবকাঠামো সব ধ্বংস করে দিয়েছে। চাঁপাবাজি করে বলছে, বিএনপির আমলে নাকি রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা জনগণ বিশ্বাস করবে না।’
এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন আওয়ামী লীগকে ভুলে যেতে হবে। দেশে নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। যদি নির্দলীয় সরকার আনা না হয়, তাহলে ’৫২, ’৬৯, ’৯০-এর মতো আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার অধীনে নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ জনগণের সরকার নির্বাচিত হবে। সেই সরকার হবে বিএনপি সরকার।’
সভাপতির বক্তব্যে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘যুগে যুগে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন। ভাই, স্বামী, সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে। কারাবন্দি নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’
মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ।
