চীনের করোনা ঢেউয়ে দুশ্চিন্তায় বিশ্ব

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪৮ পিএম

চীনে আবারও করোনার দাপট দেখা দিয়েছে। দেশটিতে সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকলেও ব্যাপক বিক্ষোভে করোনাবিধি শিথিল করার পর সংক্রমণ আরও বাড়ছে। মহামারী বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী ৯০ দিনে চীনের জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশই সংক্রমিত হবেন। যে হারে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চীনের অর্থনীতির আকার ও বৈশ্বিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের। এদিকে লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এয়ারফিনিটি গত মঙ্গলবার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, চীনের ১৩ থেকে ২১ লাখ মানুষ এখন মৃত্যুঝুঁকিতে। এর আগেই  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ২০২৩ সালে চীনে করোনায় মারা যাবে ১০ লাখ মানুষ।     

সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশে ঊর্ধ্বমুখী করোনা ঢেউ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারতকে। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। একই সঙ্গে ভারত জুড়ে করোনা সতর্কতা বৃদ্ধিতে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। দেশে কভিড আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্স করার সংখ্যা বাড়াতে রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে রাজ্যগুলোকে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ লিখেছেন চীন, জাপান, আমেরিকা, কোরিয়া, ব্রাজিলে হঠাৎ করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সে জোর দিতে হবে। যাতে করোনার প্রজাতির ওপর নজরে রাখা যায়। চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব আরও লিখেছেন, করোনার নতুন কোনো প্রজাতির কারণে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কি না, তার সন্ধান পাওয়া যাবে জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে। জিনোম সিকোয়েন্স এমন একটা পদ্ধতি, যার সাহায্যে করোনার নতুন প্রজাতিকে চিহ্নিত করা ও তার চরিত্র সম্পর্কে জানা যায়।

বিবিসি জানায়, ২০২০ এবং ২১ সালে ভারত কভিডের প্রাণঘাতী দুটো ঢেউ প্রত্যক্ষ করেছে। যদিও গত কয়েক মাস ধরেই ভারতে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী রয়েছে। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্যানেল আশ্বাসের সুরে জানিয়েছে, চীনের করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলেও এ নিয়ে ভারতের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে চীনের কভিড পরিস্থিতির ওপর সর্বদা নজর রাখা হচ্ছে। আসছে বড়দিন এবং নববর্ষের উৎসবের সময় কভিড সংক্রমণের কোনোরকম সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা জোরদার করতেও রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি তুমুল বিক্ষোভের মুখে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটি চলতি মাস থেকে লকডাউন ও কড়া শনাক্তকরণ পরীক্ষা সংবলিত ‘শূন্য কভিড’ নীতির বিধিনিষেধগুলো তুলে নেয়। অর্থনৈতিক স্থবিরতা সত্ত্বেও এই ‘শূন্য কভিড’ নীতিই তিন বছর ধরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে দেশটির বেশিরভাগ নাগরিকের কাছ থেকে দূরে রেখেছিল। তথ্য গোপনীয়তার চীনে করোনায় মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কভিডে মৃত্যু নিয়েও চীনের রয়েছে নিজস্ব সংজ্ঞা। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর নিউমোনিয়া এবং শ্বাসযন্ত্র অকার্যকর হয়ে মৃত্যুই কেবল কভিডে মৃত্যু বলে বিবেচিত হয়। এদিকে নতুন মৃত্যুর খবর না মিললেও পেইচিংয়ের একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেন্দ্রের বাইরে ডজনখানেক শবযানের সারি দেখা গেছে বলে খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পিকিং ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ওয়াং গুয়াংফার আশঙ্কা কভিডের এই ঢেউ জানুয়ারির শেষভাগে চূড়ায় পৌঁছাবে আর জীবনযাত্রা ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে ফের স্বাভাবিক হতে পারে। কয়েকদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, আগামী বছরের কোনো এক সময় এই জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ‘তিনি আশাবাদী’। তবে এখন সংস্থাটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে থাকায় এখনই বিশ্বজুড়ে কভিড মহামারী সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার উপায় নেই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত