রাজধানীর মৌচাকে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ফারজানা আক্তার মৌ (১৪) নামে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের এক ছাত্রীর। গতকাল সোমবার বিকেলে পুলিশ ১০ তলা ভবনটির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। লাফিয়ে পড়ার আগে তার মৃত্যুর জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দায়ী করে ছাদের রেলিংয়ের দেয়ালে কিছু কথা লিখে গেছে মৌ।
মামা মোস্তফা কামাল জানান, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণিতে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিল মৌ। তবে ইংরেজি, গণিতসহ তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। গতকাল দশম শ্রেণিতে ভর্তির শেষ দিন ছিল। এজন্য মৌ তাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে যায়। মৌ তাকে অনুরোধ করে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। আগামীতে আরও ভালোভাবে পড়ালেখা করবে বলেও জানায়। তবে প্রধান শিক্ষক তার অনুরোধে সাড়া দেননি। নিষ্ফল হয়ে মন খারাপ করে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে মৌ। পরে সবার অগোচরে বাসার ছাদে চলে যায়। সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে মৌ। পরে ছাদে গিয়ে তার জুতা এবং ছাদের রেলিংয়ের দেয়ালে হাতে লেখা এটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। তাতে মৌ লিখেছে ‘বাবা, অনেক ইচ্ছা ছিল অনেক বড় হব, ভালো কিছু করব, কিন্তু হতে পারি নাই। মাফ করে দিও, (ইতি তোমার মা মৌ)। আমি বাঁচতে চাইছি, কিন্তু আমাকে বাঁচতে দিল না, হেড মাস্টারের ভাইয়ের মেয়ে ফেল করছে, তাকে উঠানো (পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ) হয়েছে, কিন্তু আমাদের হয়নি। আমার মৃত্যুর পর হলেও এর প্রতিশোধ নেয়া হোক।’
নিহত মৌয়ের বাবা আবু মুসা সৌদি প্রবাসী। মা শাহনাজ আক্তার মনি গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার হারাইরপাড়া এলাকায়।
শাহজাহানপুর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেলে মৌচাক এলাকায় মারুফ মার্কেটের পেছনে ২৩৭/২৩৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের নকশি ভিলা নামে একটি ভবনের সামনে থেকে মৌ নামে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। মেয়েটি ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার আগে বলপেন দিয়ে ছাদের রেলিংয়ে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছে।’
