চলমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে অনেকটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিল ইসরায়েল। এবার ইরানে হামলা এবং পশ্চিম তীরে আরও ইহুদি বসতি গড়ার শঙ্কা জাগানো কথা বলে ইসরায়েলকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ। নতুন করে চিরবৈরী ইরানে হামলার প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।
বুধবার ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর ক্যাডেটদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দুই বা তিন বছরের মধ্যে আপনারা হয়তো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা চালাবেন।’ এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আভিভ কোচাভি। ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে। আভিভ কোচাভি বলেন, ‘ইরানে অভিযানের প্রস্তুতির মাত্রা নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছে।’
আভিভ কোচাভি বলেন, সিরিয়ায় ‘হাজার হাজার শিয়া মিলিশিয়া’ মোতায়েনের পাশাপাশি দেশটিতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে চায় ইরান। তিনি বলেন, ইরান সিরিয়ায় আরেকটি হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল। তবে তাদের এমন পরিকল্পনায় বাগড়া দিতে সমর্থ হয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে উগ্র-ডানদের নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আবার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং ইহুদি বসতির সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে শপথ নিতে চলা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। গত বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বুধবার নতুন সরকারের নীতি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে প্রথমেই গ্যালিলি, নেগেভ, গোলান হাইটস এবং জুডিয়া ও সামারিয়াসহ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে সকল অংশে বসতি সম্প্রসারণ আরও এগিয়ে নেওয়া ও বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মূলত গ্যালিলি, নেগেভ, গোলান হাইটস এবং জুডিয়া ও সামারিয়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীরের এলাকা এবং বাইবেলের নামানুসারে ইসরায়েল এসব ফিলিস্তিনি অঞ্চলকে এই নামেই ডেকে থাকে।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। যদিও ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চায়। আনুমানিক ২৫ লাখ ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে বাস করে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের চলাচল ও গতিবিধি কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে। নেতানিয়াহুর নতুন সরকার ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ধর্মীয় এবং কট্টরপন্থি অতি-অর্থোডক্স দল, অতি-ডান-আলট্রান্যাশনালিস্ট ধর্মীয় উপদল এবং তার লিকুদ পার্টি নিয়ে গঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই সরকারের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
