সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় থাকা কোটার বিধান বাতিল প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। দেড়শ নিয়োগ প্রত্যাশীর করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এই রুল দেওয়া হয়।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি বিশ^জিত দেবনাথের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রুলের জবাব দিতে বলেছে। রুলে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর ৮(২) (গ) এবং (ঘ) বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা হবে না জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্যপদে রিট আবেদনকারী ১৫২ জনকে নিয়োগে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছে আদালত।
আইন সচিব, শিক্ষাসচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শামীম সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির পর বিভিন্ন জেলার ১৫২ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্ত ফলাফলে অনুত্তীর্ণ হন। তারা দাবি করেন, ২০১৯ সালের বিধিমালায় কোটা পদ্ধতির কারণে তারা নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর বিধিমালা ৮ (২) (গ) বিধি অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থীদের মাধ্যমে, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থীদের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বিধিমালা (ঘ) বিধি অনুযায়ী, এ নির্ধারিত কোটার শিক্ষকদের মধ্যে প্রতি ক্যাটাগরিতে (নারী, পোষ্য ও পুরুষ) অবশ্যই ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যাডভোকেট শামীম সরদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৩৭ হাজার ৫৭৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে অধিদপ্তর। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার বিষয়ে ২০১৯ সালে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা হয়েছে। যেখানে ১৫২ নিয়োগ প্রত্যাশী বঞ্চিত হয়েছেন বলে যুক্তি দেখিয়েছি। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে নারী ও পুরুষ সবারই সমান অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। শুধু অনগ্রসর কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর বিষয়ে বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের এই কোটা পদ্ধতি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছেন।’
