হিসাব জব্দের পর ভ্যাট পরিশোধ সাকিব আল হাসানের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৭ এএম

অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব মতো ভ্যাট (ভেলু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) পরিশোধ করেছে দেশসেরা ক্রিকেট খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর এনবিআরের তহবিলে পাওনা জমা দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

রাজধানীর মিরপুরের রবিউল প্লাজায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের  মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ‘সাকিব ৭৫’ অবস্থিত। রেস্তোরাঁর এই ব্যবসায়ে জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েসেরও বিনিয়োগ আছে। এই রেস্তোরাঁটি তরুণ ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। সপ্তাহের সব দিনই এখানে ভিড় লেগে থাকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা সাকিবের এই রেস্তোরাঁয় বিক্রি ও ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ এনেছে। হিসাব কষে পাওনা ভ্যাট জমা দিতে বললেও সাকিব তা করেননি। 

এনবিআর কর্মকর্তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সাকিবের রেস্তোরাঁতে খেতে আসা ক্রেতাদের কাছ থেকে হিসাব কষে ভ্যাট আদায় করা হলেও সরকারি কোষাগারে তা জমা দেওয়া হয়নি। ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি এনবিআর কর্মকর্তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসার পর ভ্যাট কর্মকর্তারা পাওনা পরিশোধে মৌখিকভাবে বলেন। এতেও কাজ না হলে কেন ভ্যাটের টাকা জমা দেওয়া হয়নি সাকিবকে তার কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সাকিবের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি।

সাকিব ৭৫ রেস্তোরাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, যমুনা ব্যাংকসহ প্রায় ৬১টি ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয় ভ্যাট কমিশনারেট থেকে। ব্যাংক হিসাব জব্দের পর রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে ভ্যাট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকলেও এনবিআরের লোকবলের অভাবে এইসব প্রতিষ্ঠানের সব ভ্যাটজালের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে এনবিআরের নজরদারী বাড়ায় গত দুই বছরে লক্ষাধিক প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওয়াতায় এসেছে। ভ্যাট ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠান পণ্যমূল্যের সাথে ভ্যাট আদায় করেও এনবিআরের কোষাগারে জমা দেয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত