ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ। তিনি একজন লেখক ও প্রকাশক। তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক। তার তিনটি ফিকশন বই হলোগুডনাইট মি. কিসিঞ্জার, ওয়ার্ল্ড ইন মাই হ্যান্ডস ও ফোর্টি স্টেপস। তিনি ওয়াসাফিরি ও গ্রান্টায় বাংলাদেশবিষয়ক আয়োজন সম্পাদনা করেছেন। ঢাকা লিট ফেস্ট সামনে রেখে কাজী আনিস আহমেদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ধ্রুপদি সম্পাদক শিমুল সালাহ্উদ্দিন
দেশ রূপান্তর : ঢাকা লিট ফেস্ট, এই সাহিত্য সম্মেলনের দশ বছর হচ্ছে। এবার নোবেল লরিয়েটসহ আসছেন তারকা লেখকরা, যখন শুরু করেছিলেন তখন স্বপ্নটা কি এমন ছিল?
কাজী আনিস আহমেদ : যখন শুরু করেছিলাম তখন থেকেই স্বপ্নটা এ রকম ছিল এবং এর থেকেও বড় স্বপ্ন আমাদের আছে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে। আমরা আশাবাদী যে এর পরেরবার বা তার পরেরবার এর কলেবর আয়তনে এবং মানে, বাড়বেই।
দেশ রূপান্তর : দশ বছরে গুণগত কি উত্তরণ হলো ঢাকা লিট ফেস্টের?
কাজী আনিস আহমেদ : যে ক্যালিবারের বিদেশি লেখকরা এখন বাংলাদেশে আসতে রাজি হচ্ছেন এটা কিন্তু পাঁচ বছর আগে আমাদের জন্য খুবই দুরূহ ছিল। এবারে গুরনাহর পাশাপাশি অমিতাভ ঘোষ, হানিফ কোরেশি, নুরউদ্দিন ফারাহ আসছেন এবং এ রকম প্রায় দুই ডজন লেখক কিন্তু ২০২৪ সালের জন্য বুকড হয়ে আছেন। আমরা মনে করি যে এখন থেকে প্রতিবারই আমরা একজন বা দুজন নোবেল লরিয়েট আনতে পারব। সাহিত্যের আসরের একটা জায়গা হিসেবে লিট ফেস্টের কারণে ঢাকার ওই ধরনের একটা ক্রেডিবিলিটি তৈরি হয়েছে।
দেশ রূপান্তর: বিদেশি যে লেখক-সাহিত্যিকরা আসছেন তাদের আপনারা কীসের ভিত্তিতে আমন্ত্রণ জানান?
কাজী আনিস আহমেদ : বাছাইটা আমরা অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে করি, যাদের লেখার সাহিত্যমূল্য আমাদের কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয়, যাদের লেখা আমরা মনে করি আমাদের পাঠকদের কাছে রিলেভেন্ট হবে, মনোগ্রাহী হবে, সেটার মধ্যে যেমন নোবেল লরিয়েট বা বড় আইকনিক ফিগারস আছেন তেমনি অনেক ইয়াংগার এবং এক্সপেরিমেন্টাল লেখকও আছেন। অনেকের কিন্তু এখন মনে নেই একমাত্র ঢাকা লিট ফেস্টেই আমরা দূর-দূরান্ত থেকে লেখক এনেছি, আমরা কিন্তু কিউবা থেকে সায়েন্স ফিকশন রাইটার এনেছি, মেক্সিকো থেকে পোস্ট মডার্ন রাইটার এনেছি, আমরা কিন্তু দুবার করে প্যালেস্টানিয়ান কবি এনেছি, উজবেকিস্তান থেকে, থাইল্যান্ড থেকে, ইন্দোনেশিয়া থেকে যেসব দেশ থেকে আমরা সচরাচর লেখক পাই না, তাদেরও আমরা কিন্তু এনেছি। সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক ভাবনার একটা পরিধি আছে এ রকম জায়গা থেকে আমরা লেখক বাছাই করি, আমন্ত্রণ করি, যে এ মুহূর্তে বিশ্বে কী হচ্ছে সেটা আমরা আনতে চাই।
দেশ রূপান্তর : যারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের কি বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে কোনো ধারণা বা ব্রিফ দেন? তারা কি এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য সম্পর্কে সাহিত্যিক সম্পর্কে কোনো ধারণা পান?
কাজী আনিস আহমেদ : অবশ্যই। আমরা সব সময় তাদের সঙ্গে যখন কথা বলি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের যে একটা ইতিহাস আছে এবং সে কারণে ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপারে আমাদের যে বিশেষ একটা অনুভূতির জায়গা আছে, আমরা প্রায় সবার সঙ্গে প্রথম আলাপ এমন একটা জায়গা থেকে শুরু করি। পাশাপাশি আমাদের যে সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাস আছে, এমনকি আধুনিক সাহিত্যের যে দীর্ঘ ইতিহাস তা তুলে ধরি। কনটেমপোরারি যারা গত কয়েক দশকে লিখেছেন তাদের কথা আমরা বলি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিথিদের কিন্তু আমরা শুধু ইংরেজিতে যারা লিখছেন তাদের না, বাংলায় যারা লিখছেন তাদের অনূদিত বই পর্যন্ত আমরা ধরিয়ে দিই। কখনো সৈয়দ হক, কখনো শাহীন আখতার, যার জন্য যেটা রিলেভেন্ট মনে করি আমরা কিন্তু হাতে তুলে দিয়েছি, ধরিয়ে দিয়েছি।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের যে লেখক-সাহিত্যিকদের আপনারা নির্বাচন করেন কীভাবে, যাদের আমন্ত্রণ জানান তারা কি বাংলা সাহিত্যের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে মনে করেন?
কাজী আনিস আহমেদ : প্রথমত প্রতিষ্ঠিত লেখক যারা আছেন সবার বিতর্কের ঊর্ধ্বে, যখন জীবিত ছিলেন একজন সৈয়দ হক এসেছেন, হাসান আজিজুল হক এসেছেন, নির্মলেন্দু গুণ এসেছেন, এনারা যখন এসেছেন এ নিয়ে তর্কের তো কিছু নেই, এর বাইরেও অন্য যারা আছেন, যারা প্রমিজিং, যাদের বই আলোচিত হয়েছে, সাহিত্যিক মহলে সমাদৃত হচ্ছে আমরা তাদের প্রাধান্য দিই। কিন্তু ওভার দি ইয়ারস আমরা কিন্তু এটাও চেষ্টা করেছি যে ঢাকার বাইরের যারা লেখক তারা এখানে আসতে পারছেন কি না! এবং নারী লেখক যারা আছেন তারা যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন কি না!
দেশ রূপান্তর : লিট ফেস্টের কারণে বাংলাদেশের সাহিত্যের কী কী উপকার হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
কাজী আনিস আহমেদ : লিট ফেস্টের কারণে পশ্চিমে যাদের এক কথায় গেটকিপার বলা যায়, যেমন এডিটর পাবলিশার এজেন্ট, তাদের মধ্যে কিন্তু বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে একটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে। দশ বছর আগে যেখানে ছিল জিরো এখন মাইনরিটি পার্সেন্টেজের মধ্যে হলেও সেটা কিন্তু হয়েছে, তার মধ্যে অনেকেই কিন্তু খুবই ইম্পর্ট্যান্ট, এবার যেমন ব্লুমসবেরির আলেক্সান্ডা প্রিঙ্গল আসছেন, আমেরিকায় অনূদিত সাহিত্যের সবচেয়ে বড় পাবলিশার, নিউ ডিরেকশন্সের প্রধান বারবারা অ্যাপ্লার, তিনি আসছেন। ওদের মার্কেটে ম্যাস লেভেলে যেতে আরেকটু সময় লাগবে।
দেশ রূপান্তর : লিট ফেস্টের প্রথমবার থেকে গত আয়োজন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছিল, এবার দেখা যাচ্ছে টিকিট কেটে আয়োজনে দর্শক হতে হবে! তাহলে কি এই উৎসব শুধু গুলশান বনানীর লেখক আর বড়লোক পাঠকদের জন্য? শাহবাগের কবিরা বা দরিয়ানগর থেকে আসা কবিরা কি ১০,০০০ টাকা টিকিট কেটে অংশ নিতে পারবে? আপনাদের উৎসব কি লেখকদের কয়েকটা শ্রেণিভাগে ভাগ করে দিচ্ছে না?
কাজী আনিস আহমেদ : এই প্রসঙ্গে আমি প্রথমত যেটা বলব যে, আমরা দেখেছি অনেকে এই টিকেটিংয়ের ব্যাপারটা নেতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। আমরা মনে করি এটা খুব ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কয়েকটা কারণ আছে। প্রথমত, যারা সমালোচনা করছেন তারাই কিন্তু অতীতে বলেছেন এখানে করপোরেট স্পন্সরশিপ কেন, এখানে গভর্নমেন্ট সাপোর্ট কেন? আমি যদি করপোরেট বা গভর্নমেন্ট সাপোর্ট কমাই তাহলে টিকেটিং না থাকলে এটা চলবে কী করে? খরচটা তো কোথাও থেকে আসতে হবে! আমরা মনে করি দর্শক-শ্রোতাকে এই টিকেটিংয়ের মাধ্যমে আমরা আরও সদর্থে এই আয়োজনে শরিক করে নিচ্ছি এবং তারা শরিক হলে এই ফেস্টিভ্যাল আরও টেকসই হবে। সেখানে স্টুডেন্টদের জন্য আমরা দিনপ্রতি মাত্র দুইশ টাকা রেখেছি বা চার দিনের জন্য মাত্র ৫০০ টাকা রেখেছি। যে বক্তারা আসছেন তাদের যে কারও একক অনুষ্ঠান লন্ডনে ন্যূনতম ৫০ পাউন্ড ফি হবে, আপনি হে ফেস্টিভ্যালে গিয়ে এদের যে কজনকে দেখতে পাবেন, দেখতে গেলে ওখানে প্রতিটি সেশনের জন্য আলাদা টিকিট কিনতে হয়, মানে আপনার ৩০০ থেকে ৭০০ পাউন্ড খরচ হবে।
দেশ রূপান্তর : আনিস ভাই, আমাদের দেশে এমনিতেই শ্রেণিবৈষম্য প্রকট, লেখকরা সব সময় শ্রেণিবৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজের পক্ষে থাকেন। সেখানে আপনাদের এই আয়োজন কি শ্রেণিবৈষম্যের চর্চাকেই উৎসাহ দিচ্ছে না?
কাজী আনিস আহমেদ : এখানে আমি কোনো বৈষম্য দেখি না। প্রথমত সবার জন্য কিন্তু টিকিট প্রাইজ একই। শিক্ষার্থীদের জন্য কম। আর দশ হাজার যেটার মূল্য সেটা তো আসলে টিকিট না, আ ফর্ম অব স্পন্সরশিপ।
দেশ রূপান্তর : আমি যদি দশ হাজার টাকার টিকিট না কাটি আমি কি সব আয়োজনই উপভোগ করতে পারব? কোনো আসন-বৈষম্য থাকবে না?
কাজী আনিস আহমেদ : হান্ড্রেড পার্সেন্ট। ভিআইপি, যারা ১০ হাজার টাকায় টিকিট কিনছেন হলে ঢুকে সেশন দেখার সময় তিনি কিন্তু কোনো প্রিভিলেজ সিট পাচ্ছেন না। ওখানে লাইন দিয়ে ঢুকে যে আগে ঢুকবে সে ভালো সিট পাবে। ফলে এখানে শ্রেণিবৈষম্যের চর্চাকে উৎসাহিত করার কিছু তো নেই।
দেশ রূপান্তর : ফান্ডামেন্টালি সাহিত্যের যে স্পিরিট বা বোধ, গণমানুষের হওয়া, সর্বজনের অধিকারের কথা বলা, তার সঙ্গে ঢাকা লিট ফেস্টের যে মৌলচিন্তা তা সাংঘর্ষিক বলে অনেকেই মনে করছেন। আপনি কী বলবেন!
কাজী আনিস আহমেদ : এ রকম কারও ধারণা থাকতে পারে। আমরা যখন প্রথম লিট ফেস্ট শুরু করেছি, তখন অনেকে বলেছে বাংলা একাডেমিতে ইংরেজিতে আলোচনা হবে কেন? আন্তর্জাতিক লেখকরা কি এখানে এসে বাংলায় কথা বলবেন? দ্যাট ওয়াজ সিরিয়াসলি ডিসকাসড! সেটা নিয়ে তখন বাংলা একাডেমির সামনে লোকে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সো মানুষ কিন্তু এই লিট ফেস্ট নিয়ে গোড়ার থেকেই ভুল তথ্য বা ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে অনেক সমালোচনা করেছে, সেগুলো পার করে আমরা একটা জায়গায় এসেছি এবং আমার মনে হয় যে আমরা টিকেটিং চালু করে সাহিত্যের মূল্যায়ন কীভাবে হয় বা হবে তার আলোচনার যে একটা সূত্রপাত করেছি।
দেশ রূপান্তর : শিল্প-সাহিত্য তো মুফতে পেয়ে আমরা অভ্যস্ত।
কাজী আনিস আহমেদ : এক্সাক্টলি! এ রকম একটা ধারণা আমাদের সংস্কৃতিতে আছে। এই শিক্ষার্থীদেরই কিন্তু ১০০০,২০০০ টাকা দিয়ে কনসার্ট দেখতে যেতে বিন্দুমাত্র আপত্তি আপনি দেখবেন না, শুধু সাহিত্যের বেলাতেই কেন এত অসুবিধা? নোরা ফাতেহীকে তো লোকে ১৫০০০ টাকার টিকিট কেটেও দেখতে গেছে। তো একজন নোবেল লরিয়েটকে দেখতে গিয়ে দিনে দুইশো টাকা বেশি হয়ে যাচ্ছে?
দেশ রূপান্তর : কিন্তু আয়োজনটা হচ্ছে বাংলা একাডেমিতে, বাংলা একাডেমি জাতির মননের প্রতীক।
কাজী আনিস আহমেদ : বাংলা একাডেমি কি জায়গাটা আমাদের ফ্রি দিচ্ছে? বাংলা একাডেমিকে চার দিনের জন্য আমাদের একুশ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। বাংলা একাডেমি অতীতে কিন্তু আমাদের কয়েকবার ফ্রিতে দিয়েছে, তখন তারা ভেন্যু পার্টনার ছিল এবং আয়রনি হচ্ছে আমরা যখন হে ফেস্টিভ্যাল ছিলাম তখনো আমরা ফ্রিতে পেয়েছি বা নামমাত্র মূল্যে পেয়েছি। ঢাকা লিট ফেস্ট হয়েও আমরা নামমাত্র মূল্যে ভেন্যু পেয়েছি, কিন্তু এবারই প্রথম আমাদের এত চড়া মূল্যে ভেন্যু নিতে হলো। একুশ লাখ টাকা চেয়েছে, দশ লাখ টাকা আগাম আমরা এরই মধ্যে দিয়েছি।
দেশ রূপান্তর : এটার কারণ কী আসলে? নিয়ম তো বদলায় নাই।
কাজী আনিস আহমেদ : এটার কারণ আসলে বাংলা একাডেমিকে জিজ্ঞেস করতে হবে। বাংলা একাডেমি এখানে টাকা পাচ্ছে, দেশের প্রত্যেক লেখক পাচ্ছেন, বিদেশিরা কিন্তু অধিকাংশই পারিশ্রমিক ছাড়া যাতায়াত ও আপ্যায়ন খরচটুকু নিয়েই আসছেন। যাতায়াতটা তো খুবই ব্যয়বহুল। এটা একটা কয়েক কোটি টাকার আয়োজন এবং এখনো পর্যন্ত আমরা করপোরেট স্পন্সরদের ওপরই মূলত নির্ভরশীল। যত বেশি পাঠক-শ্রোতারা শরিক হিসেবে শামিল হবেন তত কিন্তু আমাদের করপোরেট ডিপেনডেন্সি কমবে। আমাদের ইভেন গভর্নমেন্ট ডিপেনডেন্সি থাকবে না। তখনি এটা গণমানুষের হবে, কোনো কিছু এমনি এমনি হয় না। ফ্রিতে হয় না, বিশেষ করে যে জিনিসটা আসলেই ফ্রি না।
দেশ রূপান্তর : সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, মানে এখানে আছে এ দেশের জনগণের টাকা।
কাজী আনিস আহমেদ : না নেই। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবার আমাদের এক টাকাও অনুদান দেয়নি।
দেশ রূপান্তর : আপনারা তাহলে লোগো ব্যবহার করছেন কেন? ওয়েবসাইটে তো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের লোগো আছে!
কাজী আনিস আহমেদ : তারা আমাদের অনুদান দেন। অতীতেও দিয়েছেন, সরকার এ মুহূর্তে একটা অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রতার পথে আছে, সে কারণে এবার এখন পর্যন্ত কোনো অনুদান আমাদের দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি, মন্ত্রী চেষ্টা করছেন এবং ফিন্যান্স মিনিস্ট্রিতে একটা আবেদন পাঠিয়েছেন, তাদের এত দিনের সহযোগিতাকে মনে রেখে, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে এখনো তারা পারেননি, তবে বিবেচনায় রেখেছেন। অব্যাহত চেষ্টার প্রতি সম্মান রেখে আমরা এবারও তাদের লোগো রেখেছি, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রেখেছি।
দেশ রূপান্তর : আপনাদের উৎসবে কিছু সেশন ও অতিথিদের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক মান নিয়ে সমালোচনা আছে, এসব প্রবণতাকে আপনি কী হিসেবে দেখেন?
কাজী আনিস আহমেদ : দেখেন যারা ভাবেন পপুলার সবকিছু অচ্ছুত সেটাও কি এক ধরনের এলিটিজম নয়? যদি আমি পপুলিস্ট লিটারেচারকে ইগনোর করি তাহলে একটা গোষ্ঠী আছে যারা আমাদের বলবে এলিটিস্ট, আর আমি যদি উচ্চমার্গীয় সাহিত্য নিয়ে চর্চা করি তাহলে বলবে যে আমি সাধারণ পাঠককে কোনো পাত্তা দিচ্ছি না, আমি হুমায়ূন আহমেদের মূল্য বা মর্যাদা বুঝি না, এসব জায়গায় আমরা যথেষ্ট এগনোস্টিক, উই ট্রাই টু বি ভেরি ইউনিভার্সাল, আমরা চিন্তার জগতে, ভাবনার জগতে এবং ভাবের জগতে, যত ধরনের অভিব্যক্তি আছে, যা কি না মানুষকে এবং নানা গোষ্ঠীর মানুষকে নানাভাবে আলোড়িত করছে, নাড়া দিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিরক্ত করছে, সব কটাকেই আমরা এখানে আনার চেষ্টা করি, কারণ কোনো কিছুই আলোচনার ঊর্ধ্বে নয়, সবকিছুই আলোচনার জন্য ভ্যালিড।
দেশ রূপান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আনিস ভাই।
কাজী আনিস আহমেদ : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
