নাব্যসংকটে ধুঁকছে নওয়াপাড়া বন্দর

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:০৫ এএম

যশোরের নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র। কিন্তু যেই নদকে ঘিরে এ বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, সেই ভৈরব নদ নাব্যতাহীনতায় তার যৌবন হারিয়েছে। ফলে বাণিজ্য কেন্দ্রটি এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। অব্যাহত দখল, দূষণ, অব্যবস্থাপনা ও বিআইডব্লিউটিএর উদাসীনতা এবং অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণের ফলে নদের বুকে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। জাগছে চর। এতে নদটি নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরে আটকে যাচ্ছে কার্গো জাহাজ। মালামাল লোড-আনলোডে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। সরু জায়গা দিয়ে কার্গো জাহাজ চলাচলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি কার্গো জাহাজের সঙ্গে বিপরীতমুখী জাহাজের অন্তত দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জানা যায়, আমদানি করা হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য খালাস হয় এ বন্দরে। এখান থেকে সারা দেশে সরবরাহ হয় কয়লা, পাথর, সার ও খাদ্যশস্য। প্রায় হাজার কোটি টাকা লেনদেনের অভ্যন্তরীণ পণ্যেরও বড় বাজার নওয়াপাড়া। কিন্তু ভৈরব নদের নওয়াপাড়া অংশে নাব্য হারিয়ে সংকটে পড়েছে নৌবন্দরটি। বিভিন্ন জাহাজ থেকে অনেক বিড়ম্বনা সামলে মালপত্র নামাতে হচ্ছে শ্রমিকদের। বেশ কিছু কার্গো জাহাজ চরে আটকা পড়ে আছে। প্রায়ই জাহাজের তলা ফেটে বড় ধরনের ক্ষতি হয় বন্দরে।

কয়লা আমদানিকারক নজরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘নদের ওপর অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ নদের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। সেতু এলাকায় দখলের কারণে আগে থেকেই নদ তার বাঁক বদলেছে।’

নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল হোসেন বলেন, ‘অর্ধেকের মতো আমদানিকারক এই বন্দর রেখে এখন চট্টগ্রাম, মোংলায় পণ্য খালাস করছেন। আবার মাদার ভ্যাসেল থেকে নাগরবাড়ী, গাবতলীসহ নানা বন্দরে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবসা হারাচ্ছি। এখানে ড্রেজিং বন্ধ হয়ে যায় মাঝেমধ্যেই। জেটি, ঘাট যা-ই থাকুক, পলি জমার কারণে কার্গো কাছে আনা যায় না।’

অভয়নগর-নওয়াপাড়া পৌর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন ম-ল বলেন, ‘নামমাত্র ড্রেজিং হয়। বন্দরে জাহাজের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এমন চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে নওয়াপাড়া শুধু নামেই নৌবন্দর থাকবে।’

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ভৈরবের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে খুলনা থেকে শিরোমণি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারের অবস্থা মোটামুটি ভালো। শিরোমণি থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায়। নদের সাড়ে ২৭ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ড্রেজিংয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আশপাশের সব নিচু এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্পয়েল ফেলার জায়গা মিলছে না। তাই ড্রেজিং ধীরগতিতে চলছে।’

তিনি আরও জানান, নওয়াপাড়ায় টার্মিনালসহ বন্দর সুবিধা নির্মাণ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়েছে। ৪৫৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিআইডব্লিউটিএ। প্রকল্পের সময়সীমা জুন ২০২৪ পর্যন্ত। এর মাধ্যমে নওয়াপাড়া পূর্ণাঙ্গ নৌবন্দর হিসেবে যাত্রা করতে পারবে বলে আশা এই কর্মকর্তার।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেকে ছাড় পেলেই বন্দর এলাকায় টার্মিনালসহ বন্দরের নানা সুবিধা বাড়বে; বিশেষ করে খননকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত