আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি তাদের নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচনে তারা অংশ নেবেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির দলীয় নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগকারী উকিল আবদুস সাত্তার বিএনপি থেকে বের হয়ে সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এটিই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিএনপির সম্মুখসারির অনেক নেতাই নির্বাচনমুখী, তারা নির্বাচন করতে চায়।’ তিনি বলেছেন, ‘এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে বিএনপি যদি ভবিষ্যতে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়ও, তাদের নেতারা ঠিকই নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে তাদের নেতাদের ঠেকানো যাবে না। নির্বাচনে তারা অংশ নেবেনই।’ খবর বাসসের।
ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত আসে সমুদ্রের ওপার থেকে। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের ‘সেই’ নেতার কোনো ধারণা নেই। তিনি ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে দেশের বাইরে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সংসদ থেকে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগ দলটির প্রচ- অদূরদর্শী একটি সিদ্ধান্ত ছিল।’
বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তা প্রতিহত করার অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ভুল ছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা অংশ নেবে কি নেবে না এমন দোলাচল না রেখে, আংশিক নয়, পূর্ণশক্তি নিয়ে নির্বাচন করা প্রয়োজন ছিল। এবারও তাদের ছয় এমপির পদত্যাগ, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সম্মুখ সারির নেতাদের ধারণা। এই পদত্যাগ বিএনপির জন্য শুভ হয়নি। আমিও ব্যক্তিগতভাবে তাই মনে করি।’
আওয়ামী লীগের একটি অংশ, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায় বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এমন মন্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আসলে সন্ত্রাসের রাজত্ব বিএনপিই কায়েম করেছে। তারা সন্ত্রাসের ওপর ভর করেই রাজনীতি করে। এত দিন তারা বলত যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। এখন বলছে আবার একটি অংশ!’
এর আগে সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে দুটি তিলক পরিয়ে দিয়েছেন। একটি হচ্ছে পদ্মা সেতু চালু হওয়া, আরেকটি স্বপ্নের মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু। এতে দেশের প্রতিটি মানুষ উদ্বেলিত।
বিএনপি আর তার মিত্রদের নেতিবাচক ও গুজব ছড়ানোর রাজনীতি না থাকলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বৈশি^ক সংকট, নানা ষড়যন্ত্র ও সব নেতিবাচক দিক মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য অভিনন্দন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে, বিদেশিদের পদলেহনের রাজনীতি করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি যদি বিএনপি না করত, তাহলে দেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেত।’
