বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:১৮ এএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গণভবন থেকে সকালে সড়কপথে রওনা হয়ে পঞ্চমবারের মতো পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক হয়ে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তিনি টুঙ্গিপাড়ার বাসভবনে রাত্রিযাপন করবেন।

আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন শেখ হাসিনা। এ সময় দলের নবনির্বাচিত জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। পরে দুপুর ২টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভা হবে।

এ ছাড়া এ সফরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত মধুমতী নদীতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল বোট ল্যান্ডিং র‌্যাম্প, বাঘিয়ার নদীর পাড়ে বোট ল্যান্ডিং র‌্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনসহ গোপালগঞ্জ, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মায়ের নামে কেনা সম্পত্তি দেখতে খুলনা গেলেন প্রধানমন্ত্রী : মায়ের নামে কেনা সম্পত্তি দেখতে ব্যক্তিগত সফরে গতকাল খুলনায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে খুলনার দিঘলিয়ার নগরঘাট এলাকায় তার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে কেনা পাটগুদামস্থলে পৌঁছান তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, মায়ের নামে কেনা জমি পরিদর্শন শেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নগরীর শেখপাড়ায় তার চাচা শহীদ শেখ আবু নাসেরের বাড়ি যান। সেখানে ৫০ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় সাক্ষাৎ করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফকির সাইফুল ইসলাম এবং সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল ও শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে সংসদ সদস্য সারহান নাসের তন্ময়। পরে বিকেল ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী খুলনা ত্যাগ করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে রূপসা সেতু থেকে দিঘলিয়া ঘাট পর্যন্ত খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক তোরণ নির্মাণ করা হয়। শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে রূপসা সেতু থেকে দিঘলিয়া পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন। এ ছাড়া সঙ্গে ছিলেন তার চাচাতো ভাই সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়সহ পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত সফর হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখা করার সুযোগ ছিল না। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান প্রধানমন্ত্রীর মায়ের জায়গাটি দেখভাল করার কারণে তিনি সেখানে ছিলেন।

পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিণীর নামে দিঘলিয়ায় ভৈরব নদের কোলঘেঁষে নগরঘাট এলাকায় ১ একর ৪৪ শতক (৪ বিঘা) জমিতে পাটগুদাম ও এক কক্ষবিশিষ্ট ঘরসহ জমি কেনেন। পুরনো সেই পাটগুদাম ভেঙে সেখানে আধুনিক গুদামঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে রেস্ট হাউজ। গুদামসংলগ্ন পাকা রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত