যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বগামী পুলিশি মৃত্যু

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৮ পিএম

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দেশটির ১ হাজার ১৭৬ জন নিহত হয়েছে। ২০১৩ সালের পর থেকে যেকোনো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। অলাভজনক সংস্থা ‘ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স’ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর হালনাগাদ করা তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় পুলিশের হাতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ২০২২ সালে ৩৬ জন বেশি। এ সময় দেশটির পুলিশের হাতে নিহতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ রয়েছে ২৮৭ জন। সংগঠনটির তথ্য বলছে, পুলিশের হাতে নিহত হওয়ার মোট সংখ্যার এটি ২৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ডাটা বলছে, দেশটিতে কৃষ্ণাঙ্গ রয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী ৯৬ শতাংশই নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে। যানবাহন বা অন্যান্য ভাবেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ঘটেছে এসব প্রাণহানির ঘটনা। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্সের প্রতিষ্ঠাতা স্যামুয়েল সিনিয়াংওয়ে বলেছেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডগুলোর বেশিরভাগই একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত। রুটিন ট্রাফিক চেক, বাগ্বিতণ্ডা, গালাগাল এমন পরিস্থিতির কারণে এসব ঘটেছে। অথচ যেখানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশি সহিংসতা নিয়ে কম আলাপ মানে এই নয় যে এ ধরনের সহিংসতাও কমে গেছে। বরং এটা স্পষ্ট যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে এবং তা হচ্ছে বেশ গভীরভাবে, পদ্ধতিগত উপায়ে।’ এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কমিউনিটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুলিশের সহিংসতা হ্রাস ও জীবন বাঁচাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এছাড়া স্ট্যাটিস্টা নামের একটি পরিসংখ্যান ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে মারা গেছে ১০৬৬ জন, যাদের বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ,  হিসপানিক অথবা অশ্বেতাঙ্গ।

গত ৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বোস্টনে পুলিশের গুলিতে সৈয়দ ফয়সাল আরিফ নামের এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হন। পুলিশ বলছে, ফয়সালের হাতে বড় ছুরি ছিল, তাকে হুঁশিয়ার করার পরও অস্ত্র না ফেলায় গুলি করা হয়। কিন্তু স্থানীয় একটি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই এলাকার বাসিন্দা এক নারী নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেছেন, ফয়সালের হাতে কোনো ছুরি তিনি দেখেননি। এদিকে পুলিশের যে কর্মকর্তা ফয়সালের ওপর গুলি চালিয়েছেন, তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। গুলি চালানোর ঘটনা তদন্ত করছে মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস। নিহতের স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

২০২০ সালের মে মাসে একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে খুন হন জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ। এ ঘটনার পর বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পুলিশ বিভাগগুলোকে সংস্কার করার আহ্বান জানানো হয়। সে বছরের ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে গণ্য করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম শহর তাদের ২০২১-এর পুলিশি বাজেট সামগ্রিকভাবে আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমিয়েছে। টাম্পা, ফ্লোরিডা, ফিনিক্স, আরিজোনাসহ বিভিন্ন শহর ২০২১ অর্থবছরে তাদের পুলিশি তহবিল বাড়িয়েছে। নিউইয়র্ক ও মিনিয়াপলিস সে বছর তাদের বাজেট কমিয়ে দেয়। নিউইয়র্ক ২০২৩ অর্থবছরে পুলিশের জন্য ৫ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত