সৌদির দ্বারে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৭ পিএম

টালমাটাল রাজনীতি এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার মতোই দেউলিয়াত্বের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে দেশটি। এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে বহুদিনের পরম মিত্র সৌদি আরবের সহায়তা বারবার চেয়ে আসছে ক্ষমতাসীন শরিফ-জারদারি সরকার। এরই মধ্যে সৌদি সফরে গেলেন পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির। গত নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। এক সপ্তাহের এ সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও যাবেন মুনির।

এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, সেনাপ্রধান উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থ, সামরিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সৌদি সফরে রয়েছেন আসিম মুনির। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির বর্তমান রিজার্ভ ৬০০ কোটি ডলারের কম, যা গত আট বছরে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার সংবাদ সম্মেলনে জানান, অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত হিসেবে কিছু অর্থ রাখবে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে সৌদির সাহায্য প্রয়োজন পাকিস্তানের। ২০২১ সালের নভেম্বরে ইমরান খানের শাসনামলে ইসলামাবাদকে ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয় রিয়াদ। গত কয়েক মাসে পাকিস্তানকে আরও অর্থ দিয়েছে সৌদি। গত এপ্রিলে ক্ষমতা নেওয়ার পর অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, গত বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৯০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে সৌদি। এ ছাড়া দেশটি থেকে ৫০ কোটি ডলারের তেল আমদানি করেছে পাকিস্তান।

ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ ফয়সাল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, জেনারেল মুনিরের সফরকে অবশ্যই অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা উচিত। কারণ বিশেষভাবে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর হয়েছে। ফয়সাল জানান, কৌশলগত দিক থেকে পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সৌদি আরব। সে জন্যই তারা দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। আলজাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘পাকিস্তান বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ইসলামের পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার অভিভাবক হওয়ার যে দাবি সৌদি রাজপরিবার করে, তাতে সমর্থন করে ইসলামাবাদ।’ 

পাকিস্তানের বেসামরিক-সামরিক শীর্ষদের সৌদি সফর অনেকটা পরম্পরার মতো। গত ৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো পাকিস্তানি নেতা বেসামরিক বা সামরিক দায়িত্ব নেওয়ার পরে সৌদি আরবকে তাদের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তার পূর্বসূরি ইমরান খান উভয়েই যথাক্রমে ২০১৮ ও ২০২২ সালে নিজেদের প্রথম সফরে সৌদি আরব ভ্রমণ করেছিলেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের সর্বশেষ দুই সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও জেনারেল রাহিল শরিফ তাদের প্রথম সফরেও সৌদি আরব গিয়েছিলেন। রাহিল ২০১৬ সালে দায়িত্ব পাওয়ার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সৌদি আরবে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শহিদ এম আমিন বলেন, ‘এ দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। পাকিস্তান অর্থনৈতিক সহায়তা পায় এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্বও আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত