বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এজন্য দেশে উৎপাদন হয় এমন খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খাদ্য নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মার্জিন কম থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ঋণ বিতরণে আগ্রহ কম দেখা গেছে। এতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তফসিলভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণের বিপরীতে সুদের মার্জিন বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ মার্জিন হিসেবে পাবে, যা আগে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তফসিলভুক্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইওদের এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণকারী ৫০টি তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদনকে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে কৃষি খাতে ঋণ সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে স্কিমের তহবিলের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কৃষি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন স্কিমের পাশাপাশি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালার আওতায় ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যাতে কৃষকদের মধ্য কৃষি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বিতরণে বাড়তি আগ্রহ পায় সেজন্য সুদের মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা ব্যাংকের জন্য আকর্ষণীয়। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কৃষি তহবিলের ঋণ বিতরণের বিপরীতে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ মার্জিন পাবে, যা আগে ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ব্যাংকগুলো বাড়তি আগ্রহ নিয়ে ঋণ বিতরণ করবে। আর কৃষিঋণ বাড়লে খাদ্য উৎপাদন ত্বরান্বিত হবে। যা সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য জোরদারে ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে প্রায় সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আর ব্যাংকগুলো চুক্তি অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করবে। গত নভেম্বরে তহবিল গঠনের সময় সুদের হার ধরা হয়েছিল ৪ শতাংশ। আর ঋণ পরিষদের সময়কাল ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১৮ মাস।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, কৃষকের মধ্যে ঋণ গ্রহণে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। যদিও কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি বিতরণে সব ব্যাংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এই তহবিলের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করছি এ স্কিম বাস্তবায়ন হবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।
জানা গেছে, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের অনুকূলে শস্য ও ফসল (ধান-সবজি, ফল ও ফুল) চাষের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।
এদিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ধরে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
