চীন তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানকে ঘিরে নিজেদের সামরিক কার্যক্রম আরও বাড়িয়েছে বেইজিং। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, তাইওয়ানের চারপাশে ৫৭টি চীনা যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর চারটি যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাইওয়ানের অভিযোগ, এসবের মধ্যে ২৮টি বিমান তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া চালায় চীন। গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হলো এমন মহড়া। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই মহড়ার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, চীনের এই তৎপরতা উসকানিমূলক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।
চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মহড়া চালানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভবিষ্যতে চীন এমন মহড়া অব্যাহত রাখবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। তবে ঐতিহাসিকভাবে চীনের অংশ হলেও চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর পুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসীরা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করেছে তাইওয়ানে।
২০২১ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য দরকার জলে সামরিক শক্তিও প্রয়োগ করা হবে।

এমন প্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, যদি তাইওয়ান দখলে চীন কোনো আক্রমণ চালায় সেটি হতে পারে ২০২৭ সালে। চীন যদি সত্যি সত্যি তাইওয়ানে হামলা চালায় তাহলে দেশটি কী সফল হবে? এ নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস।
ওই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, চীনের এ আক্রমণ খুব সম্ভবত ব্যর্থ হবে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাইওয়ানকে সহায়তা করে। তবে এক্ষেত্রে বড় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে তৈরি করা গবেষণা প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ যুদ্ধে সরাসরি জড়িত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান এবং জাপান। আর এ চার দেশই ‘বিপুল’ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই জাপানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটিগুলো চীনের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাবে। এমনকি গুয়ামে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালাতে পারে চীন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মার্কিন রণতরী এবং ১০ থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
বেশ কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দাবি করেছে, চীনও তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। তাইওয়ানের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করার আগেই চীনের সেনারাও ধ্বংস হয়ে যাবে।
এছাড়া তাইওয়ান চীনের মূল ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। যা ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব অস্থিতিশীল করে দিতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ানকে সহায়তা না করে তাহলে মাত্র তিন মাসের মধ্যে জোরপূর্বক পুরো তাইওয়ান দখল করে ফেলবে চীন।
