ফের বিতর্কে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। গত অক্টোবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে পারেননি বলসোনারোর উগ্র ডানপন্থী সমর্থকেরা। তাদের অভিযোগ, কারচুপির মাধ্যমে বলসোনারোকে হারানো হয়েছে। এ জন্য তারা সামরিক বাহিনীর ‘হস্তক্ষেপ’ চেয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (৮ জানুয়ারি) ব্রাজিলের পার্লামেন্ট ভবন কংগ্রেস, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সুপ্রিম কোর্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাণ্ডব চালান বলসোনারোর সমর্থকেরা। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন ডানপন্থী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, বলসোনারোকে আশ্রয় দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিতে নিজ দলেই চাপের মুখে পড়েছেন বাইডেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা জোয়াকিন কাস্ত্রো সিএনএনকে বলেছেন, বলসোনারোকে ফ্লোরিডায় থাকতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া এই স্বৈরাচারীর আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের। তাকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো উচিত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদকালে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছেন বলসোনারো। কখনও বিতর্কিত মন্তব্য করে, কখনও অদ্ভুত সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তিনি।
করোনা মোকাবিলায় বলসোনারো প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়েও সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। কোভিডে যে দেশগুলোতে সর্বাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, ব্রাজিল তাদের মধ্যে অন্যতম। কোভিডের প্রাথমিক পর্বে মাস্ক না পরে, কোভিড-বিধি না মেনে নতুন ‘নজির’ তৈরি করেছিলেন ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। করোনায় দেশটিতে প্রায় সাত লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এছাড়া, পরিবেশ এবং নারী সম্পর্কে অসংবেদনশীল মন্তব্য এবং মনোভাবের কারণেও বহু বার সমালোচিত হয়েছেন বলসোনারো । কিছু দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, মানুষের মাংস খেতেও তার কোনও অসুবিধা নেই।
বোলসোনারোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগটি ওঠে, তাহল তার শাসন আমলে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত ব্রাজিলের আমাজন রেন ফরেস্টের সর্বাধিক ক্ষতি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নিজের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের কারখানা স্থাপনের জন্য যথেচ্ছ ভাবে গভীর জঙ্গলের গাছ কাটায় মদত দিচ্ছেন বোলসোনারো।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশ্য নির্বিকার থাকতেই দেখা যায় তাকে।
এছাড়াও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করায় মেজাজ হারিয়ে এক সাংবাদিককে ‘ঘুষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
বোলসোনারোই ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে পারলেন না। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফের্নান্দো কারডোসো, ২০০৬ সালে লুলা, ২০১৪ সালে দিলমা রাউসেফ- প্রত্যেকেই দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছিলেন।
