ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মতামত এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিজিডি কর্মসূচির তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ তালিকা সংশোধনের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় তারা বসবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জানান, উপজেলার ছয় ইউনিয়নে আগামী দুই বছর ভিজিডি কার্যক্রমের আওতায় ২ হাজার ৬৫৯ জন দুস্থ নারী সুবিধা পাবেন। তাদের তালিকা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিজিডি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে উপজেলা কমিটিতে পাঠানোর কথা। উপজেলা কমিটি সেটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেবে। কিন্তু অটোমেশনের কথা বলে উপজেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি তালিকা অনুমোদন দিয়েছে। এই তালিকা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে গতকাল দুপুরে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। একপর্যায়ে তারা ওই কর্মকর্তাকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ বিষয়ে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইউএনও রাশিদা আক্তার বলেন, ‘এখন সব তালিকা হয় অনলাইনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংশোধন করে আমাদের তালিকা না দেওয়ায় অটোমেশন পদ্ধতিতে তালিকা প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন চেয়ারম্যান-মেম্বাররা চাচ্ছেন তাদের দেওয়া তালিকা অনুমোদন করতে। এটি করার সুযোগ আছে, কিন্তু বেশ কিছু নিয়মের ভেতরে দিয়ে যেতে হবে। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের তালিকা অনুমোদনের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
