পাল্টাপাল্টি কভিড-কূটনীতি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে চীন। চীনা ভ্রমণকারীদের ওপর কভিড বিধিনিষেধের আরোপের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে পেইচিং। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। সিউলের চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীনে প্রবেশে দক্ষিণ কোরীয়দের পর্যটক ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। জাপানের সংবাদমাধ্যমের খবরেও দেশটির নাগরিকদের ওপর চীন একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, এটি একটি পাল্টা পদক্ষেপ। চীনাদের ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত ভিসা প্রদান বন্ধ থাকবে। যদিও জাপান চীনা ভ্রমণকারীদের ভিসা প্রদান বন্ধ না করলেও তাদের করোনার নেগেটিভ সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে।

গত সপ্তাহে চীন থেকে পর্যটকদের ভিসা প্রদান বন্ধ করে দক্ষিণ কোরিয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘অবৈজ্ঞানিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন থেকে আসা যাত্রীদের নিয়ে তাদের নীতি ছিল বিজ্ঞানসম্মত। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সির তথ্য অনুসারে, ভিসা বিধিনিষেধ জারি হওয়ার আগে চীন থেকে আসা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা পজিটিভ ছিল। তাই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কমপক্ষে এ মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা, যা গবেষকদের চীন থেকে আসা সম্ভাব্য নতুন রূপগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য সময় দেবে। কোরিয়া ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর কিম উ জু বলেন, ‘এই মুহূর্তে চীনে নতুন ভেরিয়েন্টের ব্যাপারে কোনো স্বচ্ছতা নেই। যদি চীন থেকে কোনো নতুন ভেরিয়েন্ট আসে, তাহলে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য খুবই কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।’

এদিকে চীন তার নাগরিকদের ওপর পশ্চিমা ও তাদের এশীয় মিত্রদের দেশে ভ্রমণ কড়াকড়িতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ করে আসছে। এর নিন্দা জানিয়ে গত ৪ জানুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলোকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। পেইচিং সবসময় বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতে আগ্রহী।’

গত বছরের শেষদিকে বিক্ষোভের মুখে নিজেদের ‘জিরো কভিড’নীতি থেকে সরে দাঁড়ায় চীন। এরপরই চীনে রেকর্ড হারে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। এ নিয়ে তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয় দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে চীন থেকে আসাদের জন্য ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত