জয়েসের জন্য দরুদ
ছড়ানো ছিটানো শহরের পথে পথে
একলা এবং অনেকে একসাথে
আমরা খেলেছি আদম হাওয়ার খেলা
নাম দিলো যে সকল বস্তুকে
রাতের প্রবল ঢালুরেখা ধরে ধরে
ছুটে চলা কোন সুবেহ্ সাদিকে
আমরা খুঁজেছি শব্দ এবং মানে
(এখনো স্মরণে আছে)
কাকে বলে চাঁদ, মৃত্যু এবং আলো
মানুষের যত ভুলে যাওয়া ডাকনাম
ইমেজিজমে আমরা ছিলাম বেশ
কিউবিজমের ঝুলে পড়া বাটখারা
আমরা ছিলাম প্রথাগত সংঘের
বিশ্ব-বিদ্যা-লয় করে যার পূজা
আমরা রচেছি দাড়িকমাহীন যত
অক্ষর যার নাই ঘরদোরছাদ
পঙ্ক্তির পরে পঙ্ক্তি মেলেছে ডানা
আলেহান্দ্রার পাঠাগার করে ফাঁকা
তুমি তো তখন পরবাসে ছিলে একা
দূর শহরে শান দিয়ে গেছো ধীরে
একলা তোমার বেছে নেয়া অস্ত্রের
শিল্পের যত চোরাগলি, রাজপথে
একলা গড়েছো জটিল গোলকধাঁধা
ক্ষুদ্রের থেকে ক্ষুদ্র অথচ অসীম
ইতিহাস থেকে বেশি মানুষের ভিড়
সমীহ জাগানো কুখ্যাতি কুড়িয়েছো
আমরা হয়তো মরেই যেতাম কবে
না দেখে তোমার অদ্ভুতুড়ে পশু
অথবা গোলাপ গোলকধাঁধার চোখে
স্মৃতি ধরে রাখা উজ্জ্বল কেরামতি
প্রতিধ্বনি করে যেন ঠিক ভার্জিল
রাত্রির যত রাস্তায় ঘুরে ঘুরে
ছুটেছে তোমার গুলজার নরকেরা
জ্বলজ্বল করে সুর আর রূপকের
স্বর্ণের মতো যেখানে তোমার ছায়া
কী হয় যদি-বা আমরা কাপুরুষ
পৃথিবীতে থাকে একজনও যদি বীর
কী আসে যায় এইসব বেদনায়
কখনো নিজেকে সুখী কেউ যদি ভাবে
কী আসে যায় হারালে প্রজন্মেরা
ন্যায্যতা দিলে শত শত পুস্তকে
আমিও যাহার আয়নায় চোখ রেখে
হারিয়েছিলাম নিজেকে সেই কবে
আমি হই সেই ছন্নছাড়ার দলে
একগুঁয়ে তুমি রক্ষা করেছো যাদের
দেখোনি কখনো চর্মচক্ষে তবু
আজও দূর থেকে করছো পরিত্রাণ
জেমস জয়েস
একজন মানুষের একটি দিনের ভেতরেই থাকে
এ যাবৎ জন্ম নেয়া সবগুলি দিন, সেই অচিন্ত্যনীয়
প্রথম দিনের থেকে, যখন এক জাহাঁবাজ খোদা
আলাদা করেছিলেন দিনগুলি এবং বেদনাগুলিকে,
সেই অপরের থেকে, যখন সময়ের এক ঐহিক
সর্বব্যাপী স্রোত ফিরে যায় তার উৎসে, অনন্তের দিকে;
এবং প্রজ্বলিত করে বর্তমান, অতীত আর ভবিষ্যৎকে
যা এখন এই আমার ভেতরে বহমান।
সকাল আর সন্ধ্যার অন্তস্তলে কুণ্ডলি পাকিয়ে থাকে
এই জগতের ইতিহাস। আর রাত্রির মহাফেজখানায়
আমার পায়ের কাছে আমি দেখি ইহুদির সদাভ্রাম্যমানতা
তরবারির মুখে কার্থেজের পতন, বেহেশত আর দোযখ।
হে প্রভু, সেই সাহস আর আনন্দ আমাকে দাও
যেন আরোহণ করতে পারি এই দিবসের চূড়ায়।
