শিক্ষা উপকরণের দাম আকাশচুম্বী

সন্তানের লেখাপড়া চালাতে হিমশিম

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৪ এএম

বরিশাল নগরের বটতলা এলাকায় একটি টিনের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন সাইদুল ইসলাম। তার বড় ছেলে বরিশাল পলিটেকনিক কলেজে পড়ে আর ছোট মেয়ে এবার চতুর্থ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি সাইদুল শহরে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে কাঠের আসবাব তৈরি করেন। অর্ডার না পেলে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। দোকান ভাড়া, ঘর ভাড়া দিয়ে যা সামান্য থাকে তা দিয়ে পরিবারের চার সদস্যের আহারের জোগান দিতেই হিমশিম। এরমধ্যে দুই সন্তানের প্রাইভেট পড়ার খরচ, বই, খাতা, কলম কিনতে হাপিয়ে উঠতে হয় তাকে।

সাইদুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার সময়ে দুই বছর দোকান বন্ধ ছিল। এখনো তেমন কাজ নেই। খুব কষ্ট করে বেঁচে আছি। নতুন বছরে মেয়ের ভর্তি, নতুন বই, খাতা, কলম কিনতে হয়েছে। মেয়ে তিন বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে। প্রতি বিষয়ে আলাদা খাতা কিনতে হয়। আগে যে খাতা কিনেছি ৩০ টাকায় এখন তার দাম ৫০ টাকা। এভাবে মোট ১০টি খাতা কিনতে আমার ৫০০ টাকা লাগে। এক মাসে খাতা কিনতেই কয়েক হাজার টাকা লাগে। তার মধ্যে আবার নোট বই, এই সেই তো আছেই। তারপর আবার ছেলের জন্য।’

তিনি বলেন, সরকার বই দেয় তা ঠিক কিন্তু প্রাইভেট টিচার, স্কুল বেতন, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো আমাদের মতো লোকের পক্ষে সম্ভব না। এভাবে খাতাপত্রের দাম বাড়লে আমরা ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারব না।’

একই অবস্থা বেসরকারি চাকরিজীবী স্বপন খানের। তিনি বলেন, ‘বাজার দর, জিনিসপত্রের যে দাম তাতে সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া আমাদের মতো লোকদের জন্য দুরূহ।’

বরিশাল নগরের স্টেশনারি দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০৪ পৃষ্ঠার একটি খাতা প্রতিটি ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫০ টাকা। ১৬৪ পৃষ্ঠার খাতা ৫৫ টাকা, যা আগে ছিল ৪০ টাকা, ১২৪ পৃষ্ঠার খাতা ৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫ টাকা। এক ডজন কলম বিভিন্ন কোম্পানি অনুসারে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি জ্যামিতি বক্স ১৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরের অনামিলেন মুনসি কাগজ ঘরের ছালাম মিয়া বলেন, ‘স্টেশনারি সব মালামালের দামই বেড়েছে। কাগজের দাম তো বেড়ে ডাবল হয়েছে। এক বছর আগে রেজিস্টার খাতার প্রতি রিমের দাম ছিল ৫৮৮ টাকা, এখন সেটা ১ হাজার ৯০ টাকা হয়েছে। ১ হাজার ২৮৫ টাকা দামের ৬৫ গ্রাম কাগজের রিম হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ৫৫ গ্রাম কাগজ গত বছর ছিল ১ হাজার ৮৫ টাকা। এ বছর তা বেড়ে ২ হাজার ৫০ টাকা হয়েছে। এছাড়া ২ পাউন্ড বিদেশি কালি এক বছর আগে ছিল ৩৮৫ টাকা, এখন তা হয়েছে ৭০০ টাকা।’

মেসার্স হাবিব অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুল কলেজের স্টেশনারির ব্যবসা করছি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু হঠাৎ করে সব মালের দাম এতটা আগে কখনো বাড়েনি। দাম বাড়ায় বেচাবিক্রিও কমেছে।’

নগরের সদর রোডের মাহাবুব লাইব্রেরির সুজন বলেন, ‘কাগজের দাম বাড়ায় শিশু থেকে শুরু করে সব ধরনের বইয়ের দাম বেড়েছে। এতে আমাদের বেচাবিক্রিও কমেছে।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা বলেন, ‘শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধি নিম্নবিত্তদের জন্য সত্যি দুঃখজনক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত