খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক রয়েছেন একজন। যে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স চালু রয়েছে তাতেও ভাড়া নেওয়া হয় বেশি। এর মধ্যে আবার সপ্তাহে দুই দিন খুলনা সিভিল সার্জন ব্যক্তিগত কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেন। ফলে রোগীদের একটু জটিল সমস্যা তৈরি হলে ১০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে জেলা শহরে চিকিৎসা নিতে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন প্রসূতি মায়েরা।
স্থানীয়রা জানান, জেলা শহর থেকে কয়রা উপজেলার দূরত্ব একশ কিলোমিটার। প্রত্যন্ত এ এলাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সেরই সুব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স সংকটে রোগী হাসপাতালে আনা নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ফলে মুমূর্ষু প্রসূতি রোগীদের জেলা শহরে পাঠানো হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একশ কিলোমিটার পাড়ি দিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জনকে খুলনা থেকেই কয়রায় আনতে ও রবিবার কয়রা থেকে খুলনায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়। একমাত্র চালু অ্যাম্বুলেন্সটি সপ্তাহের দুই দিন সিভিল সার্জনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রত্না মণ্ডল নামে এক প্রসূতির খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তখন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি সিভিল সার্জন সুজাত আহম্মেদকে আনতে খুলনায় অবস্থান করছিল। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় ওই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে যায়।
রতœা মণ্ডলের চাচা ভবোতোষ মণ্ডল বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বাচ্চার মাথা কিছুটা বের হয়ে আসে। একপর্যায়ে হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু খিঁচুনির কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এ ছাড়া নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তার দ্রুত খুলনাতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখতে বলেন। পরে অনেক শঙ্কার মধ্য দিয়ে রাত ৯টায় অ্যাম্বুলেন্স এলে খুলনায় রওনা দিই। ভাড়া নেওয়া হয় ৩ হাজার ৫০০ টাকা।’
রত্না মণ্ডলের মতো এ রকম অ্যাম্বুলেন্স সমস্যায় প্রতিনিয়তই পড়তে হচ্ছে এ উপজেলার মানুষদের। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে রোগী আনলেও এ রকম সমস্যায় পড়তে হয়।
অ্যাম্বুলেন্স চালক আবদুস সালাম বলেন, ‘সব সময় রোগী না থাকায় সিভিল সার্জন স্যার মাঝেমধ্যে ভাড়া দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন।’ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘খুলনায় যাওয়া আসার ভাড়া নেওয়া হয়। সে হিসেবে ২ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে হাসপাতালে সরকারিভাবে তেলের বিল চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হয় না। এজন্য রোগীদের কাছ থেকে একটু বেশি নেওয়া হয়।’
সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহম্মেদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়ে মাঝেমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করি। উপজেলায় একটাই চালক পদ রয়েছে। ভাড়া বেশি নেওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি বিধান অনুযায়ী একটা অ্যাম্বুলেন্সের তেলের খরচ পায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাছাড়া পাম্প থেকে বাকিতে তেল দেয় না। সে কারণে রোগীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া নেন তারা। এটা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘সিভিল সার্জনের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করার কথা না। অভিযোগগুলো লিখিত আকারে দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
