মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে যে শহরের তাপমাত্রা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:১৩ পিএম

বিশ্বের অন্যতম শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইয়াকুতস্ক শহর। মস্কো থেকে ৫ হাজার কিমি পূর্বে অবস্থিত ইয়াকুতস্ক। এই খনির শহরের বাসিন্দারা প্রায়শই থার্মোমিটারের পারদকে মাইনাস ৪০-এর এর নিচে নেমে যেতে দেখেন। এমনিতেও শীতের সময় ভয়ঙ্কর তুষারপাত হয় এই শহরে। এ বছর আরও জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়েছে। বর্তমানে শহরটির তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।

শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের উষ্ণ রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। শহরটির ক্ষেত্রে জানুয়ারি সবচেয়ে ঠান্ডা মাস। অন্যতম শীতলতম স্থান হওয়ায় শহরের বাসিন্দারা এমনিতেই হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় বসবাস করতে অভ্যস্ত।

শহরটির এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলার সময় তার পরনে ছিল দুটি চাদর, একাধিক স্তরের হাতমোজা, টুপি ও হুড। ইয়াকুৎস্ক শহরের ওই বাসিন্দা বলেন, আপনি এই ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন না। তাই হয় আপনি মানিয়ে নিন, সে অনুযায়ী পোশাক পরুন, নয়তো আপনি কষ্ট ভোগ করুন।

২০১৮ সালে শহরটিতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছিল। তখন চোখের পাপড়ি পর্যন্ত ঠান্ডায় জমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন শহরটির বাসিন্দারা।

image

স্থানীয় বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রি করছিলেন শহরটির আরেক বাসিন্দা। তার ভাষ্য, এমন ঠান্ডার প্রকোপ থেকে নিজেকে রক্ষার মূল কৌশল হলো বহু স্তরের পোশাক পরা। এই মাছবিক্রেতা বলেন, শুধু উষ্ণ পোশাক পরুন। বাঁধাকপির পাতার মতো স্তরে স্তরে পোশাক পরুন। তিনি জানালেন, এখন আর মাছ ফ্রিজে রাখার দরকার পড়ছে না। এত ঠাণ্ডাতে এমনিই মাছ ভালো থাকছে।

গোটা শহরই চলে গেছে বরফের নিচে। দেখে মনে হবে কেউ যেন সাদা রং করে দিয়েছে। গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর, দোকানপাটের ওপর বরফের আচ্ছাদন। রাস্তাঘাটে পুরু বরফের স্তর জমে আছে। ঠাণ্ডার ছোবল থেকে বাঁচতে বাঁধাকপির কায়দায় পোশাক পরতে হচ্ছে। অর্থাৎ এমন পোশাক যাতে অনেকগুলো স্তর থাকে। তবে কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না ঠাণ্ডার মরণ কামড়। শহরটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত