ফেনীর ৭ মডেল মসজিদের একটিরও কাজ শেষ হয়নি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৯ পিএম

নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা জটিলতায় থমকে গেছে ফেনীর ৭টি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ। কাজ শুরুর সময় যে ব্যয় ধরে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল তা এখন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে মডেল মসজিদের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, করোনা প্রাদুর্ভাব, নির্মাণকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে পরিপূর্ণতা পায়নি ফেনীর একটি মডেল মসজিদও। জেলায় বরাদ্দকৃত মোট ৭টি মডেল মসজিদের মধ্যে ৪টির কাজ চলমান রয়েছে। যদিও এগুলোর কার্যকাল শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। আর বাকি ৩টির কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

ফেনী গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২০ সালের শুরুর দিকে চূড়ান্তভাবে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। জেলা মডেল মসজিদটি ১৪ কোটি এবং প্রতিটি উপজেলা মসজিদের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি মডেল মসজিদ নির্মাণের সময়কাল নির্ধারণ করা হয় প্রায় এক বছর। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও একটি মসজিদেরও কাজ শেষ হয়নি। এরমধ্যে জেলা মডেল মসজিদটির ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ছাগলনাইয়ার মডেল মসজিদের কাজ ৭৫ শতাংশ, ফুলগাজীর ২৮ শতাংশ ও ফেনী সদরেরটির ২৬ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকি তিন উপজেলা সোনাগাজী, দাগনভূঞা ও পরশুরামে মডেল মসজিদ নির্মাণের দরপত্রই এখনো আহ্বান করা হয়নি।

২০২০ সালের ১৮ মার্চ ফেনীর মহিপালে সদর মডেল মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। দীর্ঘ দুই বছর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ১৫/২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন বলে জানান ঠিকাদারের প্রতিনিধি সাইদ হোসেন। চলতি বছরের শেষ দিকে মসজিদটি হস্তান্তর করা যাবে বলে জানান তিনি।

জেলা মডেল মসজিদসহ তিনটি মসজিদের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নূরনবী রাজু বলেন, ‘আমাদের ৩টি মসজিদের মধ্যে ফতেহপুর এলাকায় জেলা মডেল মসজিদের কাজ আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে শেষ হবে। এছাড়া সদর ও ফুলগাজী উপজেলার দুটি মসজিদের কাজ আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হতে পারে।’

কাজের ধীরগতির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে প্রকল্পের কাজ বুঝে নিয়ে শুরু করতেই বিলম্ব হয়। কাজ শুরুর পরেই বর্ষাকালের বৃষ্টিতে বিঘিœত হয়। পরে করোনার কারণে ঠিকভাবে কাজ করা যায়নি। এখন নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় লোকসানে কাজ করতে হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় ৫৮-৬২ টাকা দামের রড এখন ৯৫ টাকা, ৩০০ টাকা দামের সিমেন্ট এখন প্রায় ৫৫০ টাকা ও ৮০ টাকা দামের পাথর এখন ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবুও আমরা নির্মাণকাজ শেষ করতে দ্রুত চেষ্টা করছি।’

ফেনী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ইউসুপ আলী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক

সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকছে নারী-পুরুষের পৃথক ওজুখানা ও নামাজ আদায় করার সুবিধা। এছাড়া লাইব্রেরি ও রিসার্চ সেন্টার, সভা মিলনায়তন, অতিথিশালা, শিশু শিক্ষা, পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, ইমামদের প্রশিক্ষণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

ফেনী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, ‘চলমান ৪টি মসজিদের কার্যকাল ১ বছর আগে শেষ হলেও করোনার প্রভাবে এখনো কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগাদা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ তিনটি মসজিদের কাজ শুরু না হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘সোনাগাজী এবং পরশুরাম উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আগানো সম্ভব হয়নি। দাগনভূঞা উপজেলার মডেল মসজিদ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত