গত ১৬ জানুয়ারি থেকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন, যা শেষ হবে ২০ জানুয়ারি। ৫ দিনের ওই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে শিল্পপতি সহ বহু নামী-দামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও হয়েছিল নজরকাড়া। দাভোসের বিলাসবহুল হোটেল এবং রিসোর্টে উঠেছিলেন তারা। পাশাপাশি তাদের জন্য হোটেলগুলোতে বেড়ে গিয়েছিল যৌনকর্মীদের আনাগোনা। চলেছে রমরমা যৌন ব্যবসাও!
লিয়ানা নামের এক যৌনকর্মী এই প্রসঙ্গে স্থানীয় এক সংবাদপত্রে মুখ খোলেন। লিয়ানা বলেন, ‘আমি দামি জামাকাপড় পরে শিল্পপতিদের ভিড়ে মিশে গিয়েছিলাম। মাঝেমধ্যেই আমেরিকা থেকে আসা এক অতিথিকে যৌনসেবা দিতে হত আমাকে। তার সঙ্গে এক ঘণ্টা কাটানোর জন্য ৭৬০ ডলার পারিশ্রমিক দিতেন তিনি। কখনও কখনও সারা রাত থাকতে হত তার সঙ্গে। তখন প্রায় আড়াই হাজার ডলার হাতে পেতাম।’
দাভোস শহর থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাগাউ শহর। আরাগাউ শহর থেকেও যৌনকর্মীদের হোটেলে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী। তিনি কয়েকজন যৌনকর্মীকে নিয়ে একটি এসকর্ট সার্ভিস চালাতেন। ওই নারীর বক্তব্য, ‘শুরুর দিকে একসঙ্গে ১১ জন যৌনকর্মীকে চাওয়া হয়েছিল। তারপর আরও ২৫ জন খদ্দের খোঁজ নিয়েছিলেন যে, কোনও যৌনকর্মীকে পাওয়া যাবে কি না।’

তবে এখানেই শেষ নয়, দিন দিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছিল বলে জানিয়েছেন ওই নারী। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ নিজের প্রয়োজন মেটাতে ফোন করতেন। কেউ আবার তার সহকর্মীদের জন্য পার্টি দিতেন। ওই পার্টির জন্য যৌনকর্মী চাইতেন অনেকে।’
জার্মানির এক যৌনকর্মী স্যালোমে বালথাস (৩৬) তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা টুইট করে জানিয়েছেন। স্যালোমে লিখেছেন, ‘রাত ২টার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা হোটেলের করিডরে ঘোরাফেরা করছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে রেস্তোরাঁ থেকে বিনামূল্যে পাওয়া চকোলেট খেয়েছি এবং হোটেলে উপস্থিত ধনী অতিথিদের নিয়ে গল্প করেছি।’
দাভোসের কাছাকাছি একটি হোটেলে উঠেছিলেন স্যালোমে। কিন্তু তিনি যাদের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন, তাদের পরিচয় উল্লেখ করতে চান না। বরং তিনি টুইট করে লেখেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কেউ যৌনকর্মীদের প্রতি আগ্রহ দেখান না। তাদের শরীরের খিদে নেই, সময়ও নেই। মাদক, যৌনতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক তৃতীয়টি। জীবনে অন্য কোনও বিষয়ে আগ্রহ জাগার মতো সময় দেয় না মানুষকে। বরং ভেতর থেকে সেই মানুষটিকে সম্পূর্ণ খেয়ে ফেলে।’

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বিশ্ব নেতাদের এবং ব্যবসায়িক টাইকুনদের এই সম্মেলনে যৌনকর্মীর চাহিদা আকাশচুম্বী হয়। ২০২০ সালে দ্য টাইমস এর এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, সম্মেলনের সময় অন্তত ১০০ জন অভিজাত যৌনকর্মী দাভোসে আসেন।
এই বছরের শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির হার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈষম্য। ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা এবারের সম্মেলনে এক বিরল আন্তর্জাতিক বক্তৃতা করেন।
এবারের সম্মেলনে প্রায় ৬ জন প্রধান নির্বাহী এবং ৫০টিরও বেশি রাষ্ট্র বা দেশের সরকার প্রধানরা হাজির হয়েছিলেন। তবে শুধু অভিজাতদের অংশগ্রহণের এই সম্মেলন থেকে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আসলে কতটা বাস্তব পদক্ষেপ আসবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সামালোচকরা প্রায়ই বলেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার বাইরের বা খুব বেশি মুনাফাকামী ও ক্ষমতাকামী মানুষ। ফলে তারা কখনো সাধারণ মানুষদের এবং এই গ্রহের সমস্যাগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য বস্তবোচিত পদক্ষেপ নেবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
