হুমকিতে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য

প্লাস্টিক বর্জ্যে সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০৮ এএম

সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নান্দনিক সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত এ সৈকত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও পর্যটকের অবহেলায় এ সৈকত হুমকিতে পড়েছে। পুরো সৈকতজুড়ে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে সয়লাবে সৌন্দর্য যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য। প্রায় সময় সৈকতে তিমি ও ডলফিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী ও ব্যবসায়ীরা মাঝে মাঝে পরিচ্ছন্নতা অভিযান করলেও সৈকতে স্থায়ী কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। এতে দিনদিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন কেন্দ্রের বদৌলতে সৈকতের পাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় দোকান। এসব দোকানের ময়লা এবং পর্যটকদের ব্যবহৃত অপচনশীল পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, চিপস-চানাচুরের মোড়ক, কফির পেয়ালা ইত্যাদি সৈকতের যত্রতত্র পড়ে আছে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা আশরাফুজ্জামান নামে একজন পর্যটক আক্ষেপ করে বলেন, ‘কুয়াকাটা এত সুন্দর একটি জায়গা। কিন্তু সৈকতে অনেক প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে আছে, যেগুলো আমাদের খুব বিরক্ত করে। এগুলোর কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারছি না।’

বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কলাপাড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় কুয়াকাটায় বছরে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। অতিরিক্ত প্লাস্টিকের বর্জ্য সমুদ্রে থাকা প্রাণীদের হুমকিতে ফেলেছে। যে কারণে প্রতিবছর কয়েকশ তিমি, ডলফিন, কচ্ছপ, রাজ কাঁকড়াসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়। এগুলোকে বন্ধ না করা গেলে আমরা আরও হুমকিতে পড়তে পারি।’

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক বলেন, ‘সৈকতে ময়লা না ফেলার জন্য আমরা বারবার মাইকিং করে সতর্ক করি। এছাড়া সপ্তাহে একবার আমাদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান করা হয়। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ যদি সব সময়ের জন্য লোক নিয়োজিত করে তাহলে এটার সমাধান হবে।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি টিম সকাল-বিকাল ময়লা পরিষ্কার করে। কিন্তু কিছু অসচেতন পর্যটক ও ব্যবসায়ীর কারণে এ সমস্যাটা হচ্ছে।’

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ময়লা পরিষ্কার এবং সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত