বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বাকি ঝুপড়িগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত দুই দিনের আগুনে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এদিকে আগের দিন ও রাতের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবারও সারা রাত মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে কয়েক হাজার রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা অনুমান করলেও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেনি।
এদিকে টানা গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী জনপদের বাংলাদেশি বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অচেনা লোকজনকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। সন্দেহভাজন মনে হলে তাদের করা হচ্ছে তল্লাশি; বিশেষ করে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট কমিটির (আইসিআরসি) স্থানীয় অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়ায় শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পটিতে ৫৩০টি ঘর ছিল। সেখানে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছিল। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গোলাগুলির মধ্যে ক্যাম্পটির ঝুপড়ি ঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে যায়। আর কিছুসংখ্যক ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোনারপাড়া, উত্তরপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসাবাড়িতে আশ্রয় নেয়। ক্যাম্পের সব ঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা আর সেখানে ফিরে যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা জহির আহমদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সারা রাত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাকি অংশও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
তমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা আলী আকবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই শীতে কোনো রকমে দিন পার করছি। এখানে শান্তিতে নেই। মিয়ানমারে যেমন ঝামেলা, এখানেও একই রকম।’
সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
