ব্যাংক কর্মকর্তাকে ফাঁসাতে অর্থ আত্মসাৎ নাটক!

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২৪ এএম

পটুয়াখালীর বাউফলে রূপালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে ফাঁসাতে অর্থ আত্মসাৎ নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর আগে ধলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অভিযুক্ত মার্জিয়া ইসলাম রূপালী ব্যাংকের কালিশুরী বন্দর শাখা ব্যবস্থাপক মো. তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি স্থানীয় একটি পত্রিকা ও অনলাইনে খবর প্রকাশ হলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় হয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মার্জিয়া ইসলাম ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর রূপালী ব্যাংক কালিশুরী বন্দর শাখা থেকে তার বেতনের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ওই ঋণের টাকা মাসিক কিস্তি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা করে পরিশোধ করে আসছেন। ইতিমধ্যে মার্জিয়া ১১টি কিস্তিতে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন। সম্প্রতি ওই গ্রহীতা ব্যাংকে এসে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। শাখা ব্যবস্থাপক তার নামে ১০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও দাবি করেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রূপালী ব্যাংকের ওই শাখার নিরাপত্তা প্রহরী সাইদুল ইসলামের মাধ্যমে দীর্ঘ বছর ধরে ওই শিক্ষিকা ব্যাংকের লেনদেন করে আসছেন। ২০২১ সালে মার্জিয়া সাইদুলের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাকে ধার হিসেবে দেন। ওই টাকা শোধ দিতে না পেরে গত বছর ২ নভেম্বর থেকে গা ঢাকা দেন সাইদুল। সাইদুলকে না পেয়ে মার্জিয়া কৌশলে ব্যাংকের ওপর দায় চাপাতে ঋণের টাকা অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষিকা মার্জিয়া ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। পলাতক সাইদুলের বাবা জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘মার্জিয়ার কাছ থেকে আমার ছেলে সাইদুল টাকা নিয়েছে। আমি সে টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের জন্য মার্জিয়াকে একটি অঙ্গীকারনামা লিখিতভাবে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকে কোনো ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। আমাকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে সাইদুলকে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত