রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৪৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটক পেরোতেই প্রশাসনিক ভবন। এ ভবনের ডান দিকে সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে মুসলিম স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা সুউচ্চ মিনার। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে চতুর্দিকে স্থাপন করা হয়েছে লাইটপোস্ট। নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনাও। সব থেকে আকর্ষণীয় দিক হলোসুবিশাল অভ্যন্তরীণ এই মসজিদের জায়গায় নেই কোনো পিলার। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী স্থানে ওপরের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার গম্বুজ। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। অসাধারণ নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতায় রাজশাহীতে অনন্য এই মসজিদ, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য-শোভাকে বাড়িয়ে সূচনা করেছে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় তিন একর জায়গায় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৫২ গজ ও প্রস্থ ৫২ গজ। তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশাপ্রণেতা ‘থারিয়ানির’ নকশার আলোকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটির নির্মাণব্যয় তৎকালীন ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট লাখ টাকা। মসজিদের বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০০ মুসল্লি। তবে বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের আঙিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য চারপাশে আছে দেয়াল। আঙিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ। দক্ষিণ পাশে ফোয়ারা, অজুখানা, অফিসরুম ও শৌচাগার। দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে পেশ ইমামের বাংলো। এ ছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ। শ্বেত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো এতই মনোরম যে নির্মাণের প্রতিটি স্তরের সঙ্গেই তা একবারে মিশে গেছে। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন। মসজিদের একজন সিনিয়র পেশ ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন আছেন। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের তত্ত্বাবধানের জন্য দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন সেকশন অফিসার রয়েছেন। মসজিদের অজুখানার পাশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারটি মুসল্লিদের জন্য আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে।

রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, গোরস্থান মসজিদ, ছেলেদের আবাসিক হলে ১১টি মসজিদ, কাজলা ফটকে একটি ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ ক্যাম্পাসে আরও বেশ কটি মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে দুই ঈদ ও বিশেষ ধর্মীয় দিন বা উৎসবগুলোতে মুসল্লিদের প্রচুর ভিড় হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত