তরুণদের থেকে ইসলামের প্রত্যাশা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৫ পিএম

মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় তারুণ্য। তরুণ বয়সে একজন মানুষ শৌর্য-বীর্য, সমর-শক্তিতে থাকে পরিপূর্ণ। তারুণ্যে রক্তে থাকে অবিরাম উষ্ণতা। নিত্যনতুন সৃষ্টির নেশায় মত্ত থাকে এই বয়স। যেকোনো দেশ ও জাতির অগ্রগতির হাতিয়ার এই তারুণ্য। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামও তারুণ্যের জয়গান গেয়েছে। তরুণদের বিশেষ মর্যাদায় আসীন করেছে। তারুণ্যের সময়টাকে পবিত্র কোরআনে ‘শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তারুণ্য সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ- তিনি দুর্বল (শিশু) অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তিদান (যৌবন) করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য।’ -সুরা রুম : ৫৪

এ কারণে ইসলাম তরুণদের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং কল্যাণে বিশেষ পরিচর্যার কথা বলেছে। নবী মুহাম্মদ (সা.) যেকোনো ক্ষেত্রে সব সময় তরুণদের গুরুত্ব দিতেন, তিনি তরুণদের খুব ভালোবাসতেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যৌবনকালকে গনিমতের মাল তথা ‘মূল্যবান সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে তা মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছেন। কেননা জীবনের শ্রেষ্ঠ এই সময় সম্পর্কে পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

তরুণদের নিয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষকে ৫টি প্রশ্ন করা হবে। তার মধ্যে একটি হলো- তার তারুণ্যকে সে কীভাবে তাড়িত করেছে, যৌবনকে কীভাবে ব্যয় করেছে?’ আল্লাহ প্রদত্ত জীবনের এই মহামূল্যবান সময়টাকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) এর নির্দেশিত পথে পরিচালনা না করলে কাল হাশরের ময়দানে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

যৌবনের এই সোনালি সময়ে মানুষের দেহ থাকে সুস্থ, সবল, শক্তি ও উদ্দীপনায় পরিপূর্ণ। এ সময় তার হাতে থাকে উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মানুষই জীবনের এ মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে সুষ্ঠুভাবে ব্যয় করে না। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অথচ এই তরুণরাই পারে অজ্ঞতা, কুসংস্কার, ভীরুতা ও বাতিলের কালো থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করে অন্ধকারের বদ্ধ দুয়ার খুলে দুর্বার বেগে এগিয়ে গিয়ে আলোকিত দিন গড়তে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত