ইউটিউবার হত্যার জেরে সোচ্চার ইরাক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৪ এএম

বাবার হাতে নারী ইউটিউবার তিবা আল আলি হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার ইরাক। গত রবিবার থেকে রাজধানী বাগদাদে দফায় দফায় বিক্ষোভ করছের ইরাকি নারীরা। গত ৩১ জানুয়ারি দিওয়ানিয়াহ শহরে বাবার হাতে খুন হন ২২ বছরের তরুণী ইউটিউবার তিবা আলি। সেই হত্যার প্রতিবাদে ব্যানার হাতে ‘অনার কিলিং’, ‘নারীদের হত্যা বন্ধ করো’, ‘তিবার খুনের বিচার চাই’ সেøাগানে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ইরাকিরা। সমাবেশে নারীদের ওপর সহিংসতা রোধসহ অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিবাদ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২২ বছর বয়সী রোজ হামিদ বলেন, ‘নারীদের রক্ষার্থে আইন চাই। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তিবাসহ অন্যান্য ভিকটিমের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে আমরা এসেছি। জানি না, এরপর কে হবে এর শিকার!’ 

ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ মান গত শুক্রবার এক টুইট বার্তায় জানান, ‘৩১ জানুয়ারি তিবাকে হত্যা করেন তার বাবা। ইরাকের নাগরিক হলেও তিবা বসবাস করতেন তুরস্কে। সম্প্রতি তিনি ইরাকে এসেছিলেন। এর মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তিবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও মধ্যস্থতা করে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে তিবার বাবা তাকে হত্যা করেন।’

তিবার মৃত্যুর জেরে ইরাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দেশটির মানুষ বাবার হাতে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছেন। সাধারণ ইরাকি ছাড়া দেশটির রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রতিবাদে সোচ্চার। আলা তালাবানি নামের ইরাকের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক টুইটারে লিখেছেন, ‘পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণা থেকে আমাদের সমাজের নারীদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। কারণ, ক্রমে বাড়তে থাকা পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আইন দেশে নেই।’ ইরাকের মানবাধিকার সংস্থা দ্য ইরাকি অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস তিবার মৃত্যুতে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এদিকে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তিবার মৃত্যুর ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত