দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৩০০ আসনের সীমানার খসড়া প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মূলত গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যে সীমানা ছিল, সেটাকে খসড়া আকারে প্রকাশ করা হবে। এই সীমানার ওপর দাবি বা আপত্তি থাকলে তা জানানোর জন্য একটা সময় নির্ধারণ করে দেবে ইসি। পরে তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো না পাওয়ায় গত সংসদ নির্বাচনের আসন সীমানা ঠিক রেখেই খসড়া প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত জানান ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সীমানা যা ছিল, তা নিয়ে খসড়া প্রকাশ করা হবে চলতি মাসে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই নিজ উদ্যোগে দাবি-আপত্তির আবেদন দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে আবেদন পড়বে, সেগুলো নিয়ে শুনানি করে বিধিবিধানের আলোকে চূড়ান্ত আসন সীমানা ঘোষণা করা হবে।’
আগামী নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসন সীমানায় কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘বিষয়টি প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। আমরা আগে খসড়া প্রকাশ করব। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে আবেদন, আপত্তি আসবে এবং এখন পর্যন্ত যে আবেদনগুলো পড়েছে, সেগুলো শুনানি শেষে আমরা বলতে পারব, আসলে কয়টা আসনে কী হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সময়ে যেভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে, অর্থাৎ এখন যেটা আছে, সেটা দিয়েই আমরা খসড়া প্রকাশ করব।’
খসড়া কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। এটা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই করে দেব। বাস্তবতা এবং আইনের বিষয়টাও তাই। আগে তো মানুষকে জানাতে হবে। তারপর তাদের কোনো আপত্তি থাকলে তার ওপর শুনানি হবে।’
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর গত রবিবার বলেছিলেন, সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করে থাকা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘যে আইন আছে, তাতে প্রথম হচ্ছে ভৌগোলিক অখণ্ডতা, তারপর আঞ্চলিক অবিভাজ্যতা, তারপর প্রশাসনিক এলাকা, চতুর্থত জনসংখ্যার ঘনত্ব। এসবের বিবেচনায় নিয়ে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে সীমানা সংশোধন হবে। না হলে হবে না।’
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে মঙ্গলবারই প্রথম বৈঠক করল বর্তমান কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য কমিশনাররা এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, প্রতি জনশুমারির পর সংসদ নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। এর ছয় মাস আগেই ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার পরিকল্পনা ইসির। গত বছর ২৭ জুলাই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ষষ্ঠ জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার বলে জানানো হয়। বিবিএসের ওই প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) তাদের প্রতিবেদনে সোমবার বলেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদন যাচাইয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। বিআইডিএস তাদের পর্যালোচনা জমা দিলেও বিবিএস এখনো জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।চট্টগ্রাম ব্যুরো
