ক্যালিগ্রাফি নিয়ে মিমির স্বপ্ন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৩০ এএম

সুলতানা মিমি। একজন ফ্রিল্যান্সার ক্যালিগ্রাফি আর্টিস্ট। পেয়েছেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার। তার ক্যালিগ্রাফি শুরু ছোটবেলা থেকেই। দেয়াললিখন, মায়ের বানানো রুমালে শব্দের বিন্যাস, দরজায় লেখা ওয়েলকাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালের নীতি-বাক্যগুলোর অক্ষরবিন্যাস তাকে খুব টানত। তিনি মনে মনে এভাবে লেখার কথা ভাবতেন। বড় হয়ে তার এমন ভাবনা ডালপালা গজাল। মিমি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর অনার্স এবং প্রোডাক্ট ও ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং মাস্টার্স করেছেন। স্বামী জামিল আহমেদকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। জামিল আহমেদও ক্যালিগ্রাফি করেন।

ক্যালিগ্রাফি এমন শিল্পকে বলা হয়, যাতে চমৎকার সব প্রতীক হাতের মাধ্যমে রচনা করা ও সেগুলোকে নিখুঁত ও সুন্দর করে সাজানো হয়। এটা শব্দ ও হরফের অবস্থান ও লেখায় দক্ষতা ও কৌশলের এমন সমাহার, যাতে অখণ্ডতা, সাদৃশ্য, ঐতিহ্য, ছন্দ ও সৃজনশীল স্ফুলিঙ্গ প্রকাশ পাবে। যেকোনো ভাষাতেই ক্যালিগ্রাফি হতে পারে।

মিমি ক্যালিগ্রাফিতে স্লোগান, শায়েরি, চিরকুট, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, কোরআন মাজিদের আয়াত, দোয়া, সুরা, হাদিস, কাপল নেম বা ফ্যামিলি নেম ইত্যাদি লিখেন। ফ্রিল্যান্সার ক্যালিগ্রাফি আর্টিস্ট হিসেবে প্রায় ৮ বছর কাজ করছেন তিনি। কাজটা কেমন হবে তার ওপর তিনি দাম নেন। সেটা ৩০০ টাকা থেকে লাখ টাকাও হতে পারে। মিমি বলেন, কেউ যদি তামা, রুপা বা স্বর্ণ দিয়ে বাঁধিয়ে নিতে চান তবে সম্মানী আমার শ্রম ও ম্যাটেরিয়ালের খরচের ওপরই দিতে হবে। সামর্থ্য হলে একজন শৌখিন ক্যালিগ্রাফি সংগ্রাহক লাখখানেক বাজেটের পেইন্টিং অনায়াসেই নিতে পারেন। ফেইসবুকে মিমির পেজের নাম সুলতানা মিমি। এখানে অর্ডার দেওয়া যায়।

মিমি ভালো লাগা, ভালোবাসা থেকে ক্যালিগ্রাফি করেন। পুরস্কারের চিন্তা তার মাথায় থাকে না কখনোই। তবু কাজ সুন্দর হলে তো স্বীকৃতি মিলবেই। এ পর্যন্ত প্রায় বিশটির মতো পুরস্কার পেয়েছেন। এর উল্লেখযোগ্য হলো, বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ইন ক্যালিগ্রাফি, ইন্টারন্যাশনাল উইন্টার আর্ট এক্সিবিশন-২০১৯, স্পেশাল আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড অন কন্টেম্পরারি, ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন ফিফথ টিউন অব আর্ট-২০২০, টপ ফাইভ উইনার, বঙ্গবন্ধু ইউথ ক্যাপিটাল ইন ক্যালিগ্রাফি-২০২০, টপ অ্যাওয়ার্ড, ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ উইনার-২০২০, চ্যাম্পিয়ন ইন ক্যালিগ্রাফি ইন ক্যালিগ্রাফি, ক্যাসটাওয়ে অন মুন মেগা ফেস্ট-২০২১, ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২১, চ্যাম্পিয়ন ইন ক্যালিগ্রাফি, নিউ ইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল সিরাত ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা-২০২১।

মিমির অসংখ্য কাজ মুগ্ধ করেছে শিল্পপ্রেমীদের। যার মধ্যে সুরা আসরের আরবি ক্যালিগ্রাফি অন্যতম। হজরত রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন একটি কন্টেম্পরারি আর্টে, যেখানে রাসুল (সা.) হস্তলিখিত সিলের ক্যালিগ্রাফি উল্লেখযোগ্য। রঙিন জীবনের বর্তমান তুলে ধরেন একটি ফুলদানিতে রাখা ফুলের ফিকে হওয়া রঙে, তার এ কাজটি সমাদৃত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।

পরিবারে মা, বাবা, ভাই-বোনদের থেকে সব সময়ই মিমি সমর্থন পেয়ে এসেছেন। তবে দুঃখ হলো, তার বাবা এমন অর্জনগুলো দেখে যেতে পারেননি। অন্যদিকে মেয়ে বলেও নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়ে বলে অনেক জায়গায় মূল্যায়ন পাইনি, ক্রমাগত বাধার শিকার হতে হচ্ছে। হিজাব নিয়েও বাধাগ্রস্ত হয়েছি বারবার।

দেশে ক্যালিগ্রাফির চর্চা বেড়েছে। এর সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। ক্যালিগ্রাফিতে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে দিন দিন। বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছে। কারণ হিসেবে মিমি বলেন, অক্ষরের ব্যবহার কোথায় নেই! বইয়ের কভারে, প্রচ্ছদে, ব্যানারে, পোস্টারে চারপাশে অক্ষরের ব্যবহার। নিঃসন্দেহে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্যালিগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। মিমি সেই প্ল্যাটফর্মটা গড়তে চান। এ লক্ষ্যে ‘শিল্পবাংলা’ নামে কার্যক্রমও শুরু করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত