শিক্ষার্থী অপহরণ ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার তিন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৪ এএম

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে মতিহার থানাসংলগ্ন সুইটের মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর করা মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক শাহ আলম রাতুল (২৪), নূর মোহাম্মদ নাবিল (২৩) ও কামরান সিদ্দিক রাশেদ (২৩)। তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ শহিদুল ইসলাম হলের বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নাজমুল হাসান আইএইচটি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ফরিদপুরে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নাজমুল তার বান্ধবীকে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বরসংলগ্ন আমতলার পুকুরপাড়ে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন রাতুল, নাবিল ও রাশেদ। তারা নাজমুলের কাছে পরিচয় জানতে চান। নাজমুল ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছেন জানালে, ওই তিনজন নাজমুলের বান্ধবীকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে যেতে বলেন। এতে তার বান্ধবী ভয়ে রিকশায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে ওই তিনজন নাজমুলকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে রুয়েটে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু নাজমুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে মতিহার থানাসংলগ্ন সুইটের মোড়ে একটি গ্যারেজে নিয়ে যান। সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। তারা বিভিন্নভাবে হুমকিধমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নাজমুল বাধ্য হয়ে তার কয়েকজন বন্ধুকে টাকার জন্য ফোন করেন। কিন্তু অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও টাকা না পাঠানোয় নাজমুলকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন অভিযুক্তরা। পরে নাজমুল বাধ্য হয়ে তার বাবাকে কল করেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার বাবার সঙ্গে কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরই মধ্যে তার বন্ধুরা অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাজমুলকে উদ্ধার করে এবং রাতুল, নাবিল ও রাশেদকে আটক করে।

মতিহার থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আমরা তিনজনকে আটক করি। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চারটি ধারায় মামলা করেন। এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহাফুজুর রহমান তপু বলেন, অপহরণের ঘটনায় আমাদের ছাত্রলীগের এক নেতা জড়িত। আমরা ইতিমধ্যে তাকে সংগঠনকে থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করেছি ছাত্রলীগ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য।

এ বিষয়ে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক রবিউল আওয়ালকে একাধিকবার কল করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসাইন বলেন, আমরা বিষয়টি ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জেনেছি। তার কাছ থেকে লিখিতভাবে নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটিতে বিষয়টি আলোচনা করব। সেখানে অভিযুক্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত