ভোজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের শিষ্টাচার

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৫১ পিএম

মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাসে করেন। একা বসবাস করা মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য। আমাদের আশপাশে যারা বসবাস করেন তারা আমাদের প্রতিবেশী। নানা সময়ে আমাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় যারা অংশীদার হন। কখনো কোনো অনুষ্ঠান বা প্রীতিভোজের আয়োজনে একে অন্যকে দাওয়াত দিলে প্রত্যাখ্যান না করে বরং সেখানে উপস্থিত হওয়া উচিত। এটা নবী করিম (সা.)-এর সুন্নত। যেমন এক হাদিসে হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ তার ভাইকে দাওয়াত দিলে সে যেন তা কবুল করে। তা বিয়ে অনুষ্ঠান বা প্রীতিভোজ যা-ই হোক না কেন।’সুনানে আবু দাউদ : ৩৭৩৮

অন্য হাদিসে হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যেন তাতে সাড়া দেয়। অতঃপর ইচ্ছে হলে খাবে নতুবা বিরত থাকবে।’সুনানে আবু দাউদ : ৩৭৪০

আমাদের সমাজে একটি বিষয় খুব ব্যাপকভাবে চলে আসছে। তা হলোকোনো অনুষ্ঠানে যদি কাউকে এককভাবে দাওয়াত করা হয়, সেখানে সে পুরো পরিবার নিয়ে উপস্থিত হয় এবং সেটিও মেজবানের অজান্তে। এদিকে মেজবান পড়ে যায় বিপাকে। কখনো শিকার হন বিব্রতকর পরিস্থিতির। অনেক সময় খাদ্য স্বল্পতার দরুন লজ্জিতও হতে হয়। তাই এসব ভোজ-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন সর্বোৎকৃষ্ট শিষ্টাচার। যদি কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ আহূত মেহমানের সঙ্গে অতিরিক্ত কেউ মেজবানের বাড়িতে চলে আসে তাহলে কি তাকে তাড়িয়ে দেবে নাকি মেজবানের অনুমতি চাইবে সে সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা।

হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, আবু শুয়াইব নামক জনৈক আনসারি সাহাবি এসে তার কসাই গোলামকে বললেন, পাঁচজনের উপযোগী খাবার তৈরি করো। আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-সহ পাঁচজনকে দাওয়াত করতে যাই। তার চেহারায় আমি ক্ষুধার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।

তারপর সে লোক এসে দাওয়াত দিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকজন অতিরিক্ত এলেন। নবী করিম (সা.) বললেন, ‘এ আমাদের সঙ্গে এসেছে, তুমি ইচ্ছা করলে অনুমতি দিতে পারো, আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক, তবে সে ফিরে যাবে।’ সাহাবি বললেন, না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।সহিহ বোখারি : ২০৮১

কোনো কোনো এলাকায় অবশ্য এর প্রচলন আছে। অর্থাৎ একজনকে দাওয়াত করা মানেই পুরো পরিবারকে দাওয়াত করা। সেখানে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। তাই যেকোনো আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখা আমাদের প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যক। ইসলাম যে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা এসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দিকগুলোই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত